রাজ্যে দ্বিতীয় এবং বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে প্রথম বোন ব্যাংক (Bone Bank) পরিষেবা শুরু হল কলকাতায়। আলিপুরের বেসরকারি হাসপাতাল সিএমআরআই (সিকে বিড়লা) কর্তৃপক্ষ শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই বোন ব্যাংক পরিষেবার উদ্বোধন করল। এই পরিষেবা চালু হওয়ার ফলে হাড় প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।
যদিও কলকাতায় ইতিমধ্যেই এসএসকেএম হাসপাতালে একটি বোন ব্যাংক চালু রয়েছে, যা পূর্ব ভারতের প্রথম। তবে সেটি এখনও সেইভাবে পূর্ণাঙ্গ পরিষেবা দিতে পারেনি বলেই খবর। সেই দিক থেকে সিএমআরআই হাসপাতালে শুরু হওয়া এই পরিষেবাটি দ্রুত রোগীদের জন্য বড় ভরসা হয়ে উঠবে।
শনিবারের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম, স্বাস্থ্য অধিকর্তা চিকিৎসক স্বপন সোরেন, এবং রাজ্যের স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা অধ্যাপক-চিকিৎসক ইন্দ্রজিৎ সাহা।
হাড় প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন কেন?
ওই বেসরকারি হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান চিকিৎসক রাকেশ রাজপুত এই পরিষেবার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে বলেন, “অঙ্গদানের মতোই হাড় দানও করা যায়। অনেক সময় টিউমারের জন্য হাড় কেটে বাদ দিতে হয়, অথবা আঘাতের কারণে হাড় ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। তখন হাড় বদলানোর দরকার পড়ে। কিন্তু রোগীর শরীরে পর্যাপ্ত হাড় না থাকায় বাইরে থেকে হাড় প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়। এই অস্ত্রোপচার করতে অতিরিক্ত মাত্র পাঁচ মিনিট সময় লাগে।”
কারা হাড় দান করতে পারবেন না?
চিকিৎসক রাজপুত জানিয়েছেন, সবাই হাড় দান করতে পারবেন না। এই প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে:
-
যাঁদের শরীরে ইনফেকশন আছে।
-
যাঁরা ক্যানসারে আক্রান্ত।
-
যাঁদের টিউমারের অস্ত্রোপচার হয়েছে।
-
যাঁদের ইমিউনিটি কম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম।
খরচ ও অন্য হাসপাতালের জন্য সুবিধা:
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই ৩৫টি হাড় ব্যাংকে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং ৭-৮টি হাড় প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এটি শুধুমাত্র নিজেদের রোগীদের জন্যই নয়, অন্য সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালকেও হাড় সরবরাহ করবে।
চিকিৎসক রাকেশ রাজপুত জানান, আগে তাঁদের বেঙ্গালুরু থেকে হাড় নিয়ে আসতে হতো। তবে এখন এই ব্যাংক তৈরি হওয়ায় খরচও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। হাড় প্রতিস্থাপনের খরচ নিম্নরূপ:
| গ্রহীতা | প্রতি হাড়ের খরচ |
| সিএমআরআই-এর রোগী | ₹১৪,০০০ টাকা |
| অন্য বেসরকারি হাসপাতাল | ₹১৫,০০০ টাকা |
| সরকারি হাসপাতাল | ₹৭,০০০ টাকা |
স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এটা অ্যাডভ্যান্স টেকনোলজি। আমরা চাই বাংলার সব মানুষ অ্যাডভ্যান্স টেকনোলজির পরিষেবা পাক। চাহিদার উপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে অন্যত্রও এই পরিষেবা শুরু হবে।”