কর্পোরেট দুনিয়াকে বিদায়! অটো স্ট্যান্ডের ধারের ছোট চায়ের স্টল আজ লাখপতি যুবকের সাফল্যের চাবিকাঠি!

কথায় বলে ব্যবসা বাণিজ্যে বসতে লক্ষ্মী। তবে সবসময় যে ব্যবসায় ভাগ্যের চাকা সমানভাবে ঘোরে, তা নয়। কর্পোরেট জগতের ঝাঁ-চকচকে ভালো বেতনের চাকরি ছেড়ে দিয়ে শুধুমাত্র চা বিক্রি করেই আজকে লাখপতি হয়েছেন এক যুবক। সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে ওই যুবকের চায়ের দোকানের ছবি ও সাফল্যের গল্প। ওই যুবকের এক প্রতিবেশীর করা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট অনুযায়ী, বর্তমানে চা বিক্রি করে তিনি তার আগের চাকরির মাসিক বেতনের থেকেও অনেক বেশি টাকা উপার্জন করছেন। আর এই চাঞ্চল্যকর সাফল্যের পোস্ট সামনে আসতেই হৈচৈ পড়ে গিয়েছে নেটপাড়ায়।

অঙ্কিত পাণ্ডে নামের এক যুবক সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর প্রতিবেশীর চাকরি ছেড়ে দিয়ে চায়ের ব্যবসা শুরু করার এই চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি বিস্তারিত শেয়ার করে লিখেছেন, মাত্র ৩৮ হাজার টাকা বেতনের কর্পোরেট সংস্থার টেলিপারফম্যান্সের চাকরি ছেড়ে তাঁর প্রতিবেশী এখন নিজস্ব চায়ের ব্যবসা শুরু করেছেন। যেখান থেকে তাঁর দৈনিক ইনকাম চাকরির দৈনিক উপার্জনের অঙ্কের থেকেও অনেক বেশি। অঙ্কিত আরও জানিয়েছেন যে, তাঁর প্রতিবেশী দরজার কড়া নাড়িয়ে সম্প্রতি তাঁকে এক বাক্স মিষ্টি দিয়ে গিয়েছেন। ব্যস্ততার কারণে তাঁদের খুব একটা দেখা না হলেও, চাকরি ছেড়ে তিনি প্রায় ২ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে স্থানীয় অটো স্ট্যান্ডের কাছে একটি সুসজ্জিত চায়ের দোকান খুলেছেন। চা তৈরি ও সঠিকভাবে পরিবেশন করার জন্য তিনি দু’জন মহিলা কর্মীকেও নিয়োগ করেছেন।

ওই ভাইরাল পোস্টে আরও দাবি করা হয়েছে যে, তরুণ ওই ব্যবসায়ীর চায়ের দোকানের মেনুতে মাত্র ১০ টাকায় সাধারণ চা এবং ২০ টাকার প্রিমিয়াম চা উপলব্ধ রয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ কাপ চা বিক্রি হচ্ছে তাঁর দোকানে। যার ফলে দৈনিক প্রায় ৬,০০০ টাকা অর্থাৎ মাসে প্রায় ১.৮ লক্ষ টাকা আয় করছেন তাঁর প্রতিবেশী। দোকানের মাসিক ভাড়া, কাঁচামালের খরচ, কর্মীদের বেতন এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক পরিচালন ব্যয় বাদ দেওয়ার পরেও তরুণ উদ্যোক্তা এখন প্রতি মাসে প্রায় ১ লক্ষ টাকা নিট মুনাফা ঘরে তুলছেন বলে পোস্টে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে, অঙ্কিত পাণ্ডের প্রতিবেশীর এই অবিশ্বাস্য চা ব্যবসার সফলতা নিয়ে কার্যত দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে নেটপাড়া। একদল নেটিজেন তাঁকে সাহসিকতার জন্য সাধুবাদ জানালেও, অন্য একটি পক্ষ আবার কড়া সমালোচনা করে মন্তব্য করেছেন যে, এই ধরনের একটি সফল চায়ের দোকানের আড়ালে প্রতিদিন শত শত ছোট দোকান লোকসানের মুখে পড়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।