প্রয়াত ব্যবসায়ী সঞ্জয় কাপুরের বিপুল সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে আইনি লড়াই এবার তুঙ্গে। বলিউড অভিনেত্রী করিশ্মা কাপুর এবং সঞ্জয়ের তৃতীয় স্ত্রী প্রিয়া সচদেবের মধ্যে শুরু হওয়া এই দ্বন্দ্বে সরাসরি হস্তক্ষেপ করল দেশের শীর্ষ আদালত। গত ১৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানিতে করিশ্মা কাপুরকে একটি বিশেষ নোটিশ জারি করা হয়েছে, যেখানে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাঁকে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
কেন এই আইনি লড়াই? ২০১৬ সালে দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েনের পর সঞ্জয় কাপুর ও করিশ্মা কাপুরের বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। এরপর সঞ্জয় বিয়ে করেন প্রিয়া সচদেবকে। সম্প্রতি সঞ্জয় কাপুরের প্রয়াণের পর তাঁর বিশাল সম্পত্তির দখল ও উত্তরাধিকার নিয়ে জটিলতা শুরু হয়েছে। প্রিয়া সচদেবের দাবি, সম্পত্তির সঠিক বণ্টনের স্বার্থে সঞ্জয় ও করিশ্মার বিচ্ছেদের সময়কার যাবতীয় গোপন নথিপত্র এবং শর্তাবলি প্রকাশ্যে আসা প্রয়োজন।
সুপ্রিম কোর্টে প্রিয়া সচদেবের দাবি: প্রিয়া সচদেব সুপ্রিম কোর্টে করা আবেদনে মূলত তিনটি বিষয়ে স্বচ্ছতা চেয়েছেন:
২০১৬ সালের বিচ্ছেদের সময় করিশ্মা ও সঞ্জয়ের মধ্যে ঠিক কী কী শর্তে রফা হয়েছিল?
সন্তানদের হেফাজত (Custody) সংক্রান্ত চুক্তিতে সম্পত্তির কোনো বিষয় জড়িয়ে আছে কি না?
বিচ্ছেদের সময় ‘অ্যালিমনি’ বা খোরপোশ বাবদ করিশ্মা ঠিক কত টাকা বা সম্পত্তি পেয়েছিলেন?
প্রিয়ার অভিযোগ, বিচ্ছেদের সময় করিশ্মা মোটা অঙ্কের কোনো সম্পত্তি বা অর্থ দাবি করেছিলেন কি না, তা স্পষ্ট না হলে বর্তমান উত্তরাধিকার নির্ধারণ করা অসম্ভব। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতেই আদালত করিশ্মা ও সঞ্জয়ের ডিভোর্সের নথিপত্র এবং রায়ের ‘সার্টিফায়েড কপি’ জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ: ব্যক্তিগত জীবনের এই অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্যগুলো করিশ্মা কাপুর জনসমক্ষে আনতে রাজি হন কি না, এখন সেটাই দেখার। আদালতের দেওয়া দুই সপ্তাহের সময়সীমার মধ্যে করিশ্মা কী জবাব দেন, তার ওপরই নির্ভর করছে এই হাই-প্রোফাইল মামলার ভবিষ্যৎ।





