কমিশনের নিশানায় অভিষেক-গড়! ‘দাদাগিরি’ রুখতে এবার কোন বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে নির্বাচন কমিশন?

ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই পারদ চড়ছে ডায়মন্ড হারবারে। গত কয়েকদিন ধরে ওই এলাকায় ভোটারদের ভয় দেখানো এবং রাজনৈতিক হিংসার ভুরি ভুরি অভিযোগ জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনের দফতরে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবার কার্যত ‘ডেডলাইন’ বেঁধে দিল কমিশন। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, “আজকের মধ্যেই ভোটারদের হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে হবে।”

কমিশনের কড়া অবস্থান: রাজ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে জানানো হয়েছে, ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রটি বর্তমানে তাদের ‘হাই-প্রোফাইল’ নজরদারিতে রয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে বুথমুখী হতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে সবরকম পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। যদি আজকের পর কোনো এলাকা থেকে ভোটারদের ভয় দেখানোর প্রমাণ মেলে, তবে সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ আধিকারিক এবং ব্লক প্রশাসনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেন নজরে ডায়মন্ড হারবার? তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কেন্দ্রটি শুরু থেকেই চর্চায়। বিরোধীরা বারবার অভিযোগ করেছে যে, সেখানে অবাধে ভোট করতে দেওয়া হয় না এবং ভোটারদের বাড়ি গিয়ে গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে কমিশন ইতিমধ্যে বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে এবং ড্রোন ও ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে।

কমিশনের নয়া দাওয়াই:

  • কুইক রেসপন্স টিম (QRT): প্রতিটি বুথ এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল বাড়ানোর নির্দেশ।

  • সরাসরি অভিযোগ: ভোটারদের জন্য বিশেষ টোল-ফ্রি নম্বর চালু করা হয়েছে, যেখানে নাম গোপন রেখে অভিযোগ জানানো যাবে।

  • জিরো টলারেন্স: অশান্তি সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করে আজ রাতের মধ্যেই ‘প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট’ বা আগাম গ্রেফতারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের এই কড়া বার্তায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এখন দেখার, কমিশনের এই হুঁশিয়ারির পর ডায়মন্ড হারবারের পরিস্থিতির কতটা বদল ঘটে।

এক নজরে কমিশনের নির্দেশ:

  • কোনো ভোটার যেন ভোট দিতে যেতে বাধা না পায়।

  • প্রতিটি হুমকির অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

  • এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে দায় নিতে হবে পুলিশকে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy