কপিটে রক্তাক্ত অবস্থায় জীবনের ঝুঁকি! প্রধানমন্ত্রীর ফোনে উঠে এল ফ্লাইদুবাই পাইলটের অবিশ্বাস্য সাহসিকতার গল্প

মাঝ আকাশে চরম বিপদের মুখে পড়েও চরম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে শত শত যাত্রীর প্রাণ বাঁচানো ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছারকে ফোন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার হওয়া এই ফোনালাপে গুরুতর আহত অবস্থাতেও তাঁর দৃঢ় মানসিকতা এবং সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করে সমস্ত রকমের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
ফ্লাইদুবাইয়ের দুবাই থেকে তেল আভিভগামী এফজেড ১০৭৩ উড়ানে গত বুধবার এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উড্ডয়নের প্রায় দু’ঘণ্টা পর মাঝ আকাশে হঠাৎই ককপিটের ভেতরে কো-পাইলটের সঙ্গে সংঘর্ষ ও প্রাণঘাতী হামলার শিকার হন স্মিত। গুরুতর জখম ও রক্তাক্ত অবস্থাতেও তিনি মাথা ঠান্ডা রেখে ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার চরম সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর এই দূরদর্শিতাই শেষ পর্যন্ত কেবিন ক্রু এবং যাত্রীদের ভেতরে ঢুকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সুযোগ করে দেয়।
এরপর যাত্রীদের মধ্যে থাকা দুই অফ-ডিউটি পাইলট দ্রুত বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেন। শেষ পর্যন্ত সৌদির তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি বড়সড় বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পায়। শুক্রবারের ফোনালাপে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে নিজের সেই হাড়হিম করা অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন স্মিত। কীভাবে চরম সংকটেও তিনি অদম্য সাহস জুগিয়েছিলেন, সে কথা শোনেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে বৃহস্পতিবারই স্মিতের স্ত্রী এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিদেশে থাকা ভারতীয় দূতাবাসগুলিকে পরিবারের পাশে থাকার এবং সব রকম সাহায্যের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার দিন ককপিটের ভেতরে হামলাকারী কো-পাইলটকে যাত্রীরা ধরে ফেলেন। বিমানে থাকা এক দেন্টিস্ট আহত স্মিতের প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করায় রক্তপাত কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্মিতের এই অবিশ্বাস্য সাহসিকতা এখন ভারত ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক স্তরেও প্রশংসিত হচ্ছে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও বিশ্বনেতারা স্মিতকে ‘হিরো’ আখ্যা দিয়েছেন। বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সৌদি আরব থেকে দুবাইয়ে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। পেশাদার এই পাইলটের সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধি আজ বিশ্বজুড়ে প্রশংসার ঝড় তুলেছে।