কন্ডোমের দামেও এবার কোপ! তেলের জ্বালায় নাজেহাল সাধারণ মানুষ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে অশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। আর এই আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে চলেছে ভারতের বাজারে। শুধুমাত্র জ্বালানি তেল নয়, এই পরিস্থিতির কারণে কন্ডোমের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যপণ্যের দামও চড়চড়িয়ে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিল্প বিশেষজ্ঞরা।

কেন দাম বাড়ার আশঙ্কা? কন্ডোম তৈরির প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বিভিন্ন রাসায়নিক ও উপাদান পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য থেকে উদ্ভূত। অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে:

  • কাঁচামালের সংকট: কন্ডোম তৈরিতে প্রয়োজনীয় অ্যামোনিয়া (যা প্রাকৃতিক রাবার ল্যাটেক্সকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে) এবং সিলিকন অয়েল (লুব্রিকেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়)-এর দাম আকাশছোঁয়া। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অ্যামোনিয়ার দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

  • সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত: হরমুজ প্রণালী ও মধ্যপ্রাচ্যের নৌপথে অস্থিরতার কারণে শিপিং এবং লজিস্টিক খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। এর ফলে কাঁচামাল আমদানি করা নির্মাতাদের কাছে অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • প্যাকেজিং ও লজিস্টিকস: পিভিসি ফয়েল, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল এবং প্যাকেজিংয়ের উপকরণের দামও ঊর্ধ্বমুখী, যা চূড়ান্ত উৎপাদন খরচকে বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কী বলছে প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলো? ভারতের বৃহত্তম কন্ডোম প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘ম্যানকাইন্ড ফার্মা’ (যাদের ‘ম্যানফোর্স’ ব্র্যান্ডের বাজার দখল প্রায় ৩০ শতাংশ)-এর সিইও শীতল অরোরা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে উৎপাদন খরচ সামলাতে তারা খুচরো বাজারে দাম কিছুটা বাড়ানোর কথা ভাবতে বাধ্য হতে পারে। যদিও আপাতত সংস্থাগুলোর কাছে কিছু স্টক মজুত রয়েছে, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে আগামী দিনে গ্রাহকদের পকেটে বাড়তি চাপ পড়া কার্যত নিশ্চিত। আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্বের বৃহত্তম কন্ডোম প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘কারেক্স’ও তাদের পণ্যের দাম ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।

জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ: স্বাস্থ্যকর্মীদের মতে, কন্ডোমের দাম বেড়ে যাওয়াটা বড় চিন্তার বিষয়। ভারত বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ, যেখানে এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধ এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য সুলভ মূল্যের কন্ডোম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকার যদি এই সংকট মোকাবিলায় কোনো ভর্তুকি বা নীতিগত হস্তক্ষেপ না করে, তবে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এটি একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।

এখন দেখার বিষয়, তেলের বাজার স্থিতিশীল হওয়ার আগেই সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের এই সুরক্ষা সামগ্রীর দামে কতটা হেরফের হয়।

আপনি কি মনে করেন, কন্ডোমের মতো স্বাস্থ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ বা ভর্তুকি দেওয়া উচিত, যাতে জনস্বাস্থ্যের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে?

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy