পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্য–নিশ্চয়তা প্রকল্প স্বাস্থ্যসাথী এক নতুন অধ্যায় রচনা করল। এই বহুল জনপ্রিয় স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পটির আওতায় ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে এক কোটি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই তথ্য জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন যে, এত সংখ্যক মানুষকে পরিষেবা দিয়ে প্রকল্পটি এক নয়া রেকর্ড করেছে।
💰 ১৩ হাজার কোটি টাকার পরিষেবা
সোমবার সকালে নিজের ফেসবুক পেজে এই তথ্য প্রকাশ করে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান জানান:
পরিষেবা: প্রকল্পটির আওতায় এখনও পর্যন্ত মোট ১৩ হাজার ১৫৬ কোটি টাকার স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা রাজ্যবাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
খরচ: এই সম্পূর্ণ খরচ বহন করেছে রাজ্য সরকার নিজস্ব রাজস্ব থেকে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, রাজ্যের যেকোনো বাসিন্দা (যিনি অন্য রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত নন) স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা পাওয়ার যোগ্য। বর্তমানে প্রায় ৮.৫ কোটি মানুষ এই প্রকল্পের সুরক্ষার পরিধিতে আছেন।
🩺 প্রকল্পের মূল ভিত্তি
২০১৬ সালে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা দিতে রাজ্য সরকার এই প্রকল্পটি চালু করেছিল। এই প্রকল্পের আওতায় পরিবার পিছু বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয়। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালেও এই কার্ডের সাহায্যে চিকিৎসা পাওয়া যায়।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রকল্পের শক্তিশালী দিকগুলি হলো:
শক্তিশালী আইটি প্ল্যাটফর্ম।
হাসপাতাল ও অন্যান্য অংশীদারদের দ্রুত পেমেন্ট প্রদান।
সময়োচিত প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “আপনারা যখন কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, তখন রাজ্য সরকার সর্বদা আপনাদের পাশে রয়েছে।” স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা বলছেন, স্বচ্ছ পেমেন্ট প্রক্রিয়া, ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং দ্রুত অভিযোগ–নিরসনের কাঠামোর কারণেই এই সাফল্য এসেছে। এই মাইলফলক স্বাস্থ্যসাথীকে শুধু সংখ্যার দিক থেকে নয়, মানবিকতার দিক থেকেও এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।