ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যের জেরে সৃষ্ট ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janata Party) বিতর্ক এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। শনিবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে যখন এই ইস্যুটি নিয়ে জরুরি শুনানির আর্জি জানানো হয়, তখন আদালত আবেদনকারীকে এই বিষয়ে ‘এতটা আবেগপ্রবণ’ না হওয়ার পরামর্শ দেন। আইনজীবী এনকে. গোস্বামী আদালতের সামনে যুক্তি দেখান যে, প্রধান বিচারপতির পূর্বের কোনো মন্তব্যের প্রেক্ষিতে অনলাইনে অত্যন্ত ‘বিকৃত ও বিদ্বেষপূর্ণ’ বয়ান ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তার এই উদ্বেগের জবাবে প্রধান বিচারপতি সংক্ষেপে বলেন, “বিষয়টি এত আবেগ দিয়ে গ্রহণ করবেন না।”
বিতর্কের সূত্রপাত গত সপ্তাহে, যখন প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তরুণ প্রজন্মের একাংশ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তরুণ সমালোচক বা ‘জেনারেশন জেড’-এর ব্যবহারকারীদের তিনি ‘আরশোলা’ এবং ‘পরজীবী’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই মন্তব্য দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে জন্ম নেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। এটি কেবল একটি মিম বা কৌতুক হয়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি হয়ে উঠেছে তরুণ সমাজের প্রতিবাদের নতুন মুখ।
এই অনলাইন আন্দোলনের জনপ্রিয়তা অবিশ্বাস্য। গত কয়েক দিনে এই আন্দোলনের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলের অনুসারী সংখ্যা ১ কোটি ৯০ লক্ষ (১৯ মিলিয়ন) ছাড়িয়ে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অবাক করে দিয়ে দেখা গেছে, ভারতের দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল—বিজেপি এবং কংগ্রেসের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অনুসারীদের সম্মিলিত সংখ্যার চেয়েও ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র ফলোয়ার সংখ্যা বেশি। #MainBhiCockroach হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে এই প্ল্যাটফর্মটি এখন শিক্ষা মন্ত্রকের বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির দাবিতে পিটিশন প্রচার করছে।
যা শুরুতে কেবল একটি ব্যঙ্গাত্মক ইন্টারনেট আন্দোলন হিসেবে শুরু হয়েছিল, তা আজ কর্মসংস্থান ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার ওপর তরুণ সমাজের গভীর হতাশার প্রতিচ্ছবিতে পরিণত হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তরুণদের এই অংশগ্রহণ বুঝিয়ে দিচ্ছে, তারা এখন রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ব্যর্থতার বিরুদ্ধে শুধু হাসাহাসি করছে না, বরং পিটিশন বা আবেদনের মাধ্যমে সরাসরি জবাবদিহি চাইছে।
আইনজীবী এনকে. গোস্বামী আদালতে বারবার দাবি জানিয়েছেন যে, এই অনলাইন বয়ান জনমনে ভুল বার্তা দিচ্ছে এবং আইন ব্যবস্থার সম্মান ক্ষুণ্ণ করছে। তবে আদালত আপাতত এই ইস্যুকে প্রশাসনিক বা আইনি উচ্চতা দেওয়ার চেয়ে কিছুটা সংযত থাকার বার্তাই দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্যের পর একদিকে যেমন অনলাইনে বিতর্ক আরও তীব্রতর হয়েছে, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের এই ডিজিটাল শক্তির বহিঃপ্রকাশে শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরই কিছুটা চাপে পড়েছে। এটি স্পষ্ট যে, ভারতের তরুণ সমাজ এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে সরাসরি প্রশ্ন করার সাহস দেখাচ্ছে, যা আগামী দিনে রাজনীতির নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, সরকারের তরফ থেকে এই ডিজিটাল আন্দোলনের দাবির প্রেক্ষিতে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসে কি না।





