“ও একা খায়নি, খাইয়ে খেয়েছে!” শুভেন্দুর নিশানায় সোজা মমতা? প্রাক্তন মন্ত্রীর গ্রেফতারিতে তুলকালাম!

দুর্গাপুজোর ভিআইপি পাস বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগে গ্রেফতার হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা খ্যাতনামা সঙ্গীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেন। উচ্চপর্যায়ের এই মেগা গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য তদন্তকারী সংস্থাগুলোর হাতে তাঁর বিরুদ্ধে স্পষ্ট আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ আসার পরেই তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

নবান্নে আয়োজিত ওই সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, তদন্তকারী সংস্থাগুলো সম্পূর্ণ তথ্যপ্রমাণ ও নথিপত্রের ভিত্তিতেই ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেফতার করেছে। পাশাপাশি, এই বিপুল আর্থিক দুর্নীতির পেছনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মদত ও ভূমিকার কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত চাঁছাছোলা ভাষায় বলেন, “ও একা তো খায়নি, খাইয়ে খেয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দেন, পুজো পাস বিক্রির বেআইনি টাকা শুধুমাত্র একজনের পকেটে যায়নি, বরং এক বিশাল প্রভাবশালীদের চক্রের মধ্যে তা বণ্টন করা হয়েছিল। তবে সমস্ত অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা একমাত্র পুলিশি ও বিচারবিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।

এখানেই শেষ নয়, গ্রেফতার হওয়া ইন্দ্রনীল সেনের অতীত রাজনৈতিক জীবন নিয়েও একাধিক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, অতীতে বাম জমানায় ইন্দ্রনীল ছিলেন সিপিএমের পরম প্রিয় বা ‘ব্লু-আইড বয়’। বিশেষ করে ঐতিহাসিক নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় ইন্দ্রনীল সেন সিপিএমের সমর্থনে গান গাইতেন এবং বামপন্থীদের প্রচার কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিতেন। পরবর্তীতে ক্ষমতার পরিবর্তন হলে তিনি সুবিধাজনকভাবে তৃণমূলের পতাকা তলে আসেন এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্ব লাভ করেন। এ ছাড়াও নাম না করে এক প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মেয়ের এনজিওর (NGO) সাথেও ইন্দ্রনীলের সরাসরি যোগাযোগ ছিল বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।

ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারি ও নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই ধরনের বিস্ফোরক আক্রমণের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন মোড় তৈরি হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষগুলোর দাবি এবং আদালতের বিচারে প্রমাণিত সত্যের মধ্যে ঠিক কতটা ফারাক থাকে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। গোটা রাজ্য এখন আদালতের নজরদারিতে চলা এই হাই-প্রোফাইল তদন্ত প্রক্রিয়ার পরবর্তী ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।