উৎসবের মুখেই রান্নাঘরে বড় ধাক্কা! ২০০ টাকা পার ভোজ্য তেল, চরম মাথায় হাত আমজনতার

দোরগোড়ায় উৎসবের মরশুম। দশেরা, দীপাবলি এবং ছট পুজোকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আনন্দে মেতে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। তবে উৎসবের এই আনন্দের আবহেই চরম অস্বস্তি এনে দিয়েছে মূল্যবৃদ্ধির ছ্যাঁকা। বিশেষ করে রান্নার তেলের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের হেঁশেলে যেন আগুন লেগেছে। উৎসবের নানা সুস্বাদু খাবারের স্বাদ এবং আনন্দ দুটোই যেন ফিকে হতে বসেছে ভোজ্য তেলের আকাশছোঁয়া মূল্যের কারণে।
উৎসবের মরশুমে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে কেন্দ্রীয় সরকার ভোজ্য তেলের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক কমানোর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও বাজারে খুচরো দামে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। গত এক বছরের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ভোজ্য তেলের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। কেবল সেপ্টেম্বর মাসেই রিফাইন্ড তেলের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ এবং বাদাম তেলের (গ্রাউন্ডনাট অয়েল) দাম প্রায় ১৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল।
আমজনতার পকেটে স্বস্তি দিতে সেপ্টেম্বর মাসে সরকার ক্রুড পাম অয়েল এবং ক্রুড সয়াবিন অয়েলের ওপর আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছিল। একই সঙ্গে ক্রুড সানফ্লাওয়ার অয়েলের ওপর শুল্ক শূন্য করে দেওয়া হয় এবং রিফাইন্ড তেলের ওপর শুল্ক ছাঁটাই করা হয়। সরকারের উদ্দেশ্য ছিল এর মাধ্যমে দেশীয় বাজারে তেলের দাম দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা। তবে বিশ্ববাজারে ভোজ্য তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং টাকার বিপরীতে ডলারের শক্তির কারণে ভারতের এই শুল্ক ছাড়ের সুবিধা সাধারণ ভোক্তারা শেষ পর্যন্ত পাননি।
বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ভোজ্য তেলের লিটার প্রতি দাম অনেকটাই বেড়ে ২০০ টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। খুচরো বাজারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী— বাদাম তেল বিক্রি হচ্ছে ২৩১ টাকায়, সর্ষের তেল ২২২ টাকায়, সানফ্লাওয়ার তেল ২১৪ টাকায়, বনস্পতি ১৮৪ টাকায়, সয়াবিন তেল ১৮০ টাকায় এবং পাম অয়েল ১৬৫ টাকায় মিলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ভারতীয় মুদ্রার মান কমায় ভারতের ভোজ্য তেল আমদানি খরচ ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ভারত ভোজ্য তেল আমদানিতে ৮৭,০০০ কোটি টাকা খরচ করেছে, যা বিগত বছরের একই সময়ে ছিল ৭৩,০০০ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারের এই চাপ অব্যাহত থাকায় আপাতত উৎসবের মরশুমে আমজনতা ভোজ্য তেলের উচ্চমূল্য থেকে সহজে রেহাই পাচ্ছেন না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।