ভোরের একটা ইমেলেই জীবন তছনছ! অ্যামাজনে ফের ছাঁটাইয়ের খাঁড়া, এবার বলি কারা?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির উন্নয়ন ও পরিকাঠামো নির্মাণে বিশ্বজুড়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের মাঝেই ফের বড়সড় কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিল ই-কমার্স ও প্রযুক্তি দানব অ্যামাজন (Amazon)। সংবাদসংস্থার সূত্র অনুযায়ী, বুধবার সংস্থার বিশেষ ‘ডিভাইস বিভাগ’ থেকে প্রায় ২৫০ জন দক্ষ কর্মীকে এক লহমায় ছেঁটে ফেলা হয়েছে। ছাঁটাইয়ের এই কোপ মূলত পড়েছে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ও ইঞ্জিনিয়ারিং টিমগুলোর ওপর। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় কিন্ডল ই-রিডার (Kindle E-Reader) এবং ইকো স্মার্ট স্পিকারের (Echo Smart Speakers) মতো ফ্ল্যাগশিপ গ্যাজেটগুলো তৈরি ও তদারকির দায়িত্বে রয়েছে অ্যামাজনের এই বিশেষ বিভাগটি।

বুধবার অত্যন্ত ভোরে ইমেল ও অভ্যন্তরীণ বার্তা পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের এই দুঃসংবাদ দেওয়া হয়। অ্যামাজনের ভাইস প্রেসিডেন্ট শেরি রবিনসন ইমেলে জানান, সংস্থার কর্মকাঠামো ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পুনর্মূল্যায়ন করেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কতজনের চাকরি গেল, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মুখ খোলেনি সংস্থা। সংস্থার এক মুখপাত্রের দাবি, কাজের দক্ষতা ও গতি বাড়াতে কাঠামোগত সমন্বয়সাধন জরুরি হয়ে পড়েছিল। অন্যদিকে, ছাঁটাইয়ের ঠিক আগের দিনই এক বার্তায় অ্যামাজন স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, নতুন যুগে এআই ব্যবহারের দক্ষতা না বাড়ালে কর্মীদের ভবিষ্যতে পিছিয়ে পড়তে হবে।

অ্যামাজনে এই কর্মী ছাঁটাই কিন্তু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। চলতি মাসের শুরুতেই খুচরো বা রিটেইল বিভাগ থেকে প্রায় ১,০০০টি পদ বিলুপ্ত করা হয়েছিল। তার আগে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতেই এক ধাক্কায় ১৬,০০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা করেছিল টেক সংস্থাটি। অথচ ছাঁটাইয়ের বিপরীত স্রোতে হেঁটে এআই পরিকাঠামো তৈরিতে কেবল চলতি বছরেই প্রায় ২২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে তারা। বুধবারই পাঁচটি নতুন অ্যালেক্সা-চালিত গ্যাজেট বাজারে এনেছে অ্যামাজন। Layoffs.fyi-র তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ১ লক্ষ ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ চাকরি হারিয়েছেন, যা বিশ্ব অর্থনীতির বাজারে গভীর অশনি সংকেত বহন করছে।