“ওদিকে তাকিও না, কাজ করো!”-সহকর্মীর মৃত্যুর পরেও থামল না কাজ; গুদামে হাড়হিম করা দৃশ্য

মেশিনের যান্ত্রিক শব্দ, স্ক্যানারের অবিরাম বিপ-বিপ আর ট্রলির চাকা ঘোরার আওয়াজ— সপ্তাহের প্রথম দিনে আমেরিকার ওরেগন প্রদেশের ট্রাউটডেল এলাকার অ্যামাজ়ন ওয়্যারহাউসে ব্যস্ততা ছিল তুঙ্গে। কিন্তু সেই ব্যস্ততার মাঝেই ঘটে গেল এক পৈশাচিক অমানবিক ঘটনা। কাজ করতে করতে মেঝেতে লুটিয়ে পড়লেন ৪৬ বছর বয়সী এক কর্মী। নিথর দেহ পড়ে রইল দীর্ঘক্ষণ, অথচ তাঁকে পাশ কাটিয়েই রোবটের মতো কাজ চালিয়ে গেলেন বাকিরা।

এক ঘণ্টা পড়ে রইল নিথর দেহ: স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ৬ এপ্রিল সোমবার ওই কর্মী আচমকা অসুস্থ হয়ে কর্মস্থলেই মারা যান। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, সহকর্মী মাটিতে লুটিয়ে থাকলেও কেউ তাঁর কাছে দৌড়ে যাননি। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় দেহটি ওভাবেই পড়ে ছিল। কেউ শেলফ থেকে পণ্য নামাচ্ছিলেন, কেউ ট্রাকে লোড দিচ্ছিলেন— যেন কিছুই ঘটেনি!

‘ওদিকে তাকিও না, নিজের কাজ করো’: এই ঘটনার থেকেও ভয়ংকর ছিল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা। এক কর্মী কাঁদতে কাঁদতে সুপারভাইজারকে সহকর্মীর মৃত্যুর খবর দিলে উত্তর আসে অবিশ্বাস্য। ওই সুপারভাইজার নিস্পৃহ গলায় নির্দেশ দেন, “জাস্ট উল্টো দিকে মুখ ঘুরিয়ে নাও। ও দিকে তাকিও না। নিজের কাজে মন দাও।” কর্তৃপক্ষের এই চরম সংবেদনহীনতা এখন বিশ্বজুড়ে বিতর্কের কেন্দ্রে।

আতঙ্কে কর্মীরা, কাঠগড়ায় কর্মসংস্কৃতি: পরবর্তীতে প্যারামেডিক দল এসে পৌঁছালে মৃতদেহটি দড়ি দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো, গুদামের বাকি অংশে কাজ এক মুহূর্তের জন্যও থামানো হয়নি। এই দৃশ্য দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন অন্য কর্মীরা। এক কর্মী আক্ষেপ করে বলেন, “ওই বিল্ডিংয়ে আবার কাজ করতে ঢোকার কথা ভাবলেই হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে। আমরা কি মানুষ, না কি স্রেফ কোম্পানির একটা ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ?”

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড়: ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই নেটপাড়ায় ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। অ্যামাজ়নের মতো বড় সংস্থায় কাজের অমানুষিক চাপ এবং কর্মীদের প্রতি দয়াদাক্ষিণ্যহীন মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নেটিজেনরা। মানুষের জীবনের চেয়ে কি তবে প্যাকেটের ডেলিভারি বেশি গুরুত্বপূর্ণ? এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy