ওডেসা বন্দর ছাড়তেই মিসাইল হামলা! ৪ ভারতীয় নাগরিকের প্রাণহানির ঘটনায় উত্তাল আন্তর্জাতিক কূটনীতি!

বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি গোল্ডেন লিও’-তে ভয়াবহ হামলায় চারজন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনায় অত্যন্ত কঠোর ও অনমনীয় অবস্থান গ্রহণ করল নয়াদিল্লি। এই নজিরবিহীন ও মর্মান্তিক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাতে মঙ্গলবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স ভ্লাদিমির লাদানভকে তলব করা হয়। রুশ কূটনীতিকের হাতে ভারতের পক্ষ থেকে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে ঘটনার দ্ব্যর্থহীন ও জোরালো নিন্দা জানানো হয়েছে।

বিদেশ মন্ত্রক থেকে প্রকাশিত একটি অত্যন্ত কড়া ভাষার বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, বাণিজ্যিক জাহাজে এই ধরনের ধ্বংসাত্মক হামলা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে বিপন্ন ও দুর্বল করে তোলে। রুশ কূটনীতিককে তলব করার পর বিবৃতিতে বলা হয়, “আজ, রাশিয়ার চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স মিঃ ভ্লাদিমির লাদানভকে বিদেশ মন্ত্রকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। ১৯ জুলাই ২০২৬-এ বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি গোল্ডেন লিও-তে সংঘটিত নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা করেছে ভারত। এই বর্বরোচিত হামলায় চারজন ভারতীয় প্রাণ হারিয়েছেন। এই ধরনের বেপরোয়া হামলা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পথকে অনিরাপদ করে তুলছে।”

নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে রুশ চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্সকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় অনুরোধ করা হয়েছে যে, তিনি যেন ভারতের এই গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের কথা অবিলম্বে মস্কোর উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেন। মন্ত্রক সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর যেকোনো সশস্ত্র হামলা এবং তার জেরে নিরীহ সাধারণ মানুষের প্রাণহানি কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়া যায় না এবং এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। বিবৃতিতে আরও জোর দিয়ে বলা হয়েছে, “রুশ প্রতিনিধিকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, বাণিজ্যিক জলযানে হামলা এবং সাধারণ ক্রু সদস্যদের জীবন বিপন্ন করার এই প্রবণতা অবিলম্বে এড়ানো উচিত।”

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা গিয়েছে, গত রবিবার সন্ধ্যায় ইউক্রেনের ওডেসা বন্দর থেকে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার ঠিক মুখেই এমভি গোল্ডেন লিও জাহাজটি ভয়াবহ হামলার শিকার হয় এবং তাতে চার ভারতীয় ক্রু সদস্য প্রাণ হারান। এই দুর্ঘটনায় আরও একজন ভারতীয় নাগরিক গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, আক্রমণের সময় ওই জাহাজে মোট ১৭ জন ক্রু সদস্য সওয়ার ছিলেন, যার মধ্যে পাঁচজন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহতদের শোকস্তব্ধ পরিবারের প্রতি ভারতের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। কিয়েভে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস পরিস্থিতির ওপর অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নজর রাখছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সবরকম কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করছে।

অন্যদিকে, ইউক্রেনের নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে সরাসরি রাশিয়াকে এই ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য দায়ী করা হয়েছে। গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী ওই অসামরিক জাহাজটিতে শস্য বোঝাই করা ছিল। ইউক্রেনীয় নৌবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল ছেড়ে বেরিয়ে আসার সময় জাহাজটিকে লক্ষ্য করে তিনটি ঘাতক Kh-59/Kh-69 ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জাহাজের ওপরের অংশে তীব্র আগুন ধরে যায় এবং তৎক্ষণাৎ উদ্ধারকাজ শুরু হয়। এই জটিল পরিস্থিতিতে ভারত আবারও দ্ব্যর্থহীনভাবে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন মেনে অসামরিক জাহাজের সুরক্ষা এবং বাধাহীন নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সব পক্ষেরই নৈতিক দায়িত্ব।