এসআইআর-এর কাজের চাপে অসুস্থ বিএলও, হাসপাতালের বেডে বসেই চলছে ফর্ম আপলোডের কাজ

সীমানা পুনর্বিন্যাস ও ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া (এসআইআর/SIR) সংক্রান্ত অতিরিক্ত কাজের চাপ এবার বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) শারীরিক অসুস্থতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতিরিক্ত কাজের চাপে অসুস্থ হয়ে চোপড়া ব্লকের জাগিরবস্তি ১৮৮ নম্বর বুথের বিএলও মুস্তফা কামাল ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে অসুস্থতার মধ্যেও তিনি হাসপাতালের বেডে বসেই এনুমারেশন ফর্ম আপলোড করে চলেছেন।

ওই বিএলও, যিনি পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক, জানান, তিনি ৯১৮টি ফর্ম বিলি করেছেন এবং টানা কয়েকদিন ধরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম জমা নেওয়া এবং রাত জেগে সেগুলি আপলোড করার কাজ করছেন। দৌড়ঝাঁপ ও তীব্র মানসিক চাপের কারণে তাঁর পা ফুলে যায় এবং হাঁটার শক্তিও ছিল না। বাধ্য হয়ে এদিন সকালে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও কেন কাজ করছেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে মুস্তফা কামাল বলেন, “কি আর করা যাবে। দায়িত্ব সামলাতেই হবে। গতকাল পর্যন্ত যেটুকু ফর্ম জমা পড়েছে, সেটা ফেলে না রেখে আপলোড করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।” তবে তিনি জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কাজের সুপারভাইজারকে তাঁর অসুস্থতার কথা জানানো হয়েছে এবং তিনি বাকি কাজ সামলানোর বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন।

এসআইআর ইস্যুতে ৩ জেলাশাসকের বিরুদ্ধে শুভেন্দুর নালিশ

অন্যদিকে, এসআইআর-এর কাজকর্ম ইস্যুতে রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবার সরাসরি পূর্ব বর্ধমানসহ তিন জেলাশাসকের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানিয়েছেন।

জানা গিয়েছে, শুভেন্দু অধিকারী পূর্ব বর্ধমানের মেমারীতে একটি সংকল্প সভা থেকে এই অভিযোগ তোলেন। তিনি পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানির বিরুদ্ধে ‘বেআইনি কাজ’ করার অভিযোগ করেছেন। নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনি নালিশ জানান যে, বিএলও-রা জেলাশাসকদের সরাসরি ওটিপি দিয়েছেন, যা কোনোভাবেই নিয়মসম্মত নয়। শুভেন্দু অধিকারী আরও অভিযোগ করেন যে, আয়ের উৎস না জেনে বিধায়ক খোকন দাসের পাঁচ টাকার খাবার প্রকল্পের উদ্বোধনে জেলাশাসক কীভাবে অংশ নেন, তা নিয়েও তিনি কমিশনে অভিযোগ করেছেন।

শুভেন্দুর কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন তৎপর হয়েছে এবং জানিয়ে দিয়েছে যে এখন থেকে জেলাশাসকরাও কমিশনের স্ক্যানারে থাকবেন।