বর্ধমান শহরে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ, পুকুর ভরাটকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, শূন্যে গুলি চালানোর অভিযোগ

পুকুর ভরাটকে কেন্দ্র করে বর্ধমান শহরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল। শনিবার রাতে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের গোলাহাট এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যেখানে এক রাউন্ড গুলিও শূন্যে ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষের জেরে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন। আহতদের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, প্রায় মাসখানেক ধরে গোলাহাট এলাকায় একটি পুকুর ভরাট করা নিয়ে ঝামেলা চলছিল। সাবির আলি নামে এক ব্যবসায়ী তাঁর বাড়ির ভেতরের পুকুর ভরাট করছেন বলে অভিযোগ ওঠে। আর সেই পুকুর বোজানো নিয়েই সাবির আলির অনুগামীদের সঙ্গে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর প্রদীপ রহমান গোষ্ঠীর লোকেদের বিবাদ চলছিল।

হাতাহাতির রূপ নেয় সংঘর্ষ, জখম কাউন্সিলরের মামা

শনিবার রাতে ফের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বচসা শুরু হয়, যা দ্রুত হাতাহাতিতে পরিণত হয়। এই সংঘর্ষে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে তৃণমূল কাউন্সিলর প্রদীপ রহমানের মামা শানে আলমও রয়েছেন। আহতদের রাতেই বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

খবর পেয়ে শনিবার রাতেই হাসপাতালে যান বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাস। যদিও তিনি বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

পার্টি অফিসে মিটিং শেষে হামলার অভিযোগ, পাল্টা গুলির দাবি

সংঘর্ষের বিষয়ে কাউন্সিলর প্রদীপ রহমানের অভিযোগ, শনিবার রাতে পাড়ার পার্টি অফিসে মিটিং চলছিল। মিটিং শেষে তাঁদের কর্মীরা বাড়ি ফেরার সময় সাবির আলির মেয়ে ও ছেলে তাঁদের দলবল নিয়ে হামলা চালায়।

অন্যদিকে, সাবির আলির মেয়ে শবনম শাহির পাল্টা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁর দাবি, প্রদীপ রহমানের লোকজন শনিবার রাতে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন লোক নিয়ে বাড়ির দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁদের নিরাপত্তারক্ষী তাঁর লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক থেকে শূন্যে এক রাউন্ড গুলি ছোড়েন, যার পরই সবাই ভয় পেয়ে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বর্ধমান থানার পুলিশ এবং তদন্ত শুরু করেছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।