এশিয়া কাপ ফাইনাল, ট্রফি না নেওয়ায় ভারতকে ‘অসম্মানের’ দায়ে কাঠগড়ায় তুললেন পাক অধিনায়ক সলমন আলি আঘা

এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের কাছে টানা তৃতীয় পরাজয়ের পর মাঠে এবং মাঠের বাইরে নাটক অব্যাহত রইল। ভারতকে রানার্স-আপ দল হিসেবে ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হলেও, পাকিস্তানের অধিনায়ক সলমন আলি আঘা সেই চেক ছুঁড়ে ফেলে দেন। শুধু তাই নয়, পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে পাকিস্তান দলও এসেছিল প্রায় এক ঘণ্টা পর।

তবে খেলার চেয়েও বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে হ্যান্ডশেক বিতর্ক এবং ট্রফি না নেওয়ার ঘটনা। এই ইস্যুতেই এবার মুখ খুললেন পাক অধিনায়ক সলমন আলি আঘা।

‘গোটা ক্রিকেটকে অসম্মান করেছে ভারত’
ফাইনালের পর সাংবাদিক বৈঠকে এসে সলমন আলি আঘা সরাসরি ভারতীয় দলের আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন,

“ভারত আমাদের সঙ্গে হাত মেলায়নি, মহসিন নকভির থেকে ট্রফি নেয়নি। ওরা আমাদের সঙ্গে যা করেছে, তাতে শুধু আমাদের অসম্মান করেনি, গোটা ক্রিকেটকে অসম্মান করেছে। এগুলো দেখে বাকি দলগুলো যদি এ সব করতে শুরু করে? কোথায় শেষ হবে এ সব? ক্রিকেটারদের তো রোল মডেল হওয়া উচিত। মাঠে এগুলো হয়ে চলা খুব খারাপ।”

সলমন আলি আঘা আরও বলেন, “এটাই তো নিয়ম, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রধানের হাত থেকে আপনি যদি ট্রফি না নেন, তাহলে কীভাবে ট্রফিটা পাবেন।” তিনি প্রকারান্তরে মহসিন নকভির হাত থেকে ট্রফি না নেওয়ার ভারতীয় সিদ্ধান্তকে নিয়ম বহির্ভূত বলে উল্লেখ করেন।

সূর্যকুমারের প্রতিক্রিয়া: ‘ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফরাই আসল ট্রফি’
ভারতীয় দল যে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মহসিন নকভির (যিনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডেরও চেয়ারম্যান) হাত থেকে ট্রফি নেবে না, সেই সিদ্ধান্ত বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন।

ট্রফি না নেওয়ার ইস্যুতে ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন:

“আমি যেদিন থেকে ক্রিকেট খেলা শুরু করেছি… সেদিন থেকে এমনটা আর আগে কখনও দেখিনি। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সেই দল ট্রফি নিচ্ছে না, এমনটা হয়নি কখনও। তবে আমার মতে দলের ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফরাই আসল ট্রফি। সবাই বলছে ভারত এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন। ব্যাস, এটাই প্রাপ্তি। আর কিছু চাই না। তবে এটা পাওয়ার যোগ্য দাবিদার ছিলাম আমরা। এই জয় আমাদের প্রাপ্য ছিল।”

এই বিতর্কের কারণে এবারের এশিয়া কাপ ফাইনাল যেন ক্রিকেটের বাইরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক এক নাটকের মঞ্চে পরিণত হলো, যার রেশ আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলেই মনে করছে ক্রিকেট মহল।