এল-নিনোর দাপটে কি ভেস্তে যাবে বর্ষা? চিন্তার ভাঁজ দেশজুড়ে, কী বলছে আইএমডি?

ভারতের আবহাওয়ার মানচিত্রে বড়সড় পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিল ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)। তাদের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে আনুষ্ঠানিকভাবে এল-নিনো (El Nino) পরিস্থিতির সূচনা হয়েছে। শুধু তাই নয়, চলতি দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর মরশুমে এই এল-নিনো আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। যা নিয়ে দেশের কৃষি এবং জনজীবনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ।
কী জানিয়েছে আইএমডি?
আইএমডি-র তথ্য অনুযায়ী, মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ইতিমধ্যে এল-নিনোর নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছে। সমুদ্রের এই উষ্ণতার সাথে তাল মিলিয়ে বায়ুমণ্ডলও একইভাবে সাড়া দিচ্ছে। ফলে সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলের এই যুগ্ম ব্যবস্থা এখন স্পষ্টভাবে এল-নিনো পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। জুন ২০২৬-এ এল-নিনো পর্যবেক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক ‘নিনো ৩.৪ ইনডেক্স’ (Nino 3.4 Index)-এর তিন মাসের গড় মান +০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে উঠে যাওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে এর আগমন ঘোষণা করা হয়েছে।
বর্ষার উপর কতটা প্রভাব পড়বে?
ঐতিহাসিকভাবে এল-নিনোর সঙ্গে ভারতে দুর্বল বর্ষা এবং স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের একটি সম্পর্ক রয়েছে। এল-নিনোর প্রভাবে দীর্ঘ শুষ্ক আবহাওয়া, তাপমাত্রার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং দেশের কিছু অংশে খরার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। আইএমডি-র ‘মনসুন মিশন কাপলড ফোরকাস্ট সিস্টেম’ (MMCFS)-এর পূর্বাভাসও ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই মরশুমে বর্ষার স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হতে পারে। প্রশান্ত মহাসাগরের গভীর স্তরে জমে থাকা উষ্ণ জলরাশি আগামী মাসগুলোতে উপরে উঠে এসে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা।
আশার আলো দেখাচ্ছে ভারত মহাসাগর
তবে পরিস্থিতির পুরোটাই নেতিবাচক নয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, শুধু এল-নিনোই বর্ষার ভাগ্য নির্ধারণ করে না। ভারত মহাসাগরের প্রভাব বা ‘ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল’ (IOD) এখানে বড় ভূমিকা নিতে পারে। বর্তমানে ভারত মহাসাগরে নিরপেক্ষ আইওডি পরিস্থিতি বজায় থাকলেও, জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (JMA)-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী জুলাই নাগাদ একটি ইতিবাচক (Positive) আইওডি গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি এই ইতিবাচক আইওডি শক্তিশালী হয়, তবে তা এল-নিনোর নেতিবাচক প্রভাবকে অনেকটা প্রশমিত করতে পারে। ফলে, আপাতত এল-নিনো নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও, ভারত মহাসাগরের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। বর্ষার বাকি সময়টুকুতে এই সামুদ্রিক চলনই ভারতের কৃষি ও জনজীবনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।