যুদ্ধের ইতি টানতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক চুক্তি? খুলছে হরমুজ প্রণালির রুদ্ধদ্বার

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সংঘাত অবসানের পথে। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলা অস্থিরতা ও হরমুজ প্রণালি বন্ধের জেরে বিশ্ব অর্থনীতি যখন টালমাটাল, ঠিক সেই মুহূর্তে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে তেহরান। এই সমঝোতার অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহারের কথা উঠে এসেছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে উভয় দেশ পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়িয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল ও এলএনজি পরিবহনের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে যায়। তবে বর্তমান পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, একটি ‘চমৎকার সমঝোতা’র দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছেন তারা এবং খুব শীঘ্রই এটি স্বাক্ষরিত হতে পারে। যদিও চুক্তির খসড়া নিয়ে ইরানের অভ্যন্তরে কিছুটা মতপার্থক্য রয়েছে, তবুও শান্তি স্থাপনে দুই পক্ষই এখন নমনীয়।

চুক্তির মূল কাঠামো অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে এবং এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। এটি কার্যকর হওয়ার পর দুই মাসের একটি বিশেষ আলোচনা পর্ব শুরু হবে, যেখানে মূল ফোকাস থাকবে ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর। বিশেষ করে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস ও অপসারণের বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের কথা রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরানকে কোনো আগাম আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে না; বরং চুক্তির শর্তগুলো পর্যায়ক্রমে পালনের মাধ্যমে তাদের বৈশ্বিক অর্থনীতির মূলধারায় ফিরিয়ে আনা হবে।

উল্লেখ্য, ইসরায়েল এই শান্তি আলোচনা থেকে নিজেকে দূরে রেখেছে। দশকের পর দশক ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সন্দেহ থাকলেও, তেহরান সবসময়ই তাদের কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে এসেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও এই সমঝোতা স্মারক নিয়ে ঐকমত্যের খবর নিশ্চিত করেছেন। এখন বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে চূড়ান্ত স্বাক্ষরের দিকে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।