২৩ এপ্রিল বাংলায় প্রথম দফার মেগা ভোট। তার আগে এক অদ্ভুত হিড়িক পড়েছে ভোটারদের মধ্যে। ভিনরাজ্য থেকে কাজ ফেলে ঘরে ফেরা হোক বা অসুস্থ শরীর নিয়ে লাইনে দাঁড়ানো—গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের এই ছবি ইতিবাচক হলেও, এর নেপথ্যে কাজ করছে এক গভীর ‘আতঙ্ক’। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি রটনা ঘিরে এখন রাজ্যজুড়ে শোরগোল: “এবার ভোট না দিলে কি ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে যাবে?”
গুজবের উৎস কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের নির্বাচনে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা SIR (Subject to Inquiry/Adjudication) নিয়ে নানা টানাপোড়েন চলেছে। ট্রাইব্যুনাল থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট—মামলা গড়িয়েছে অনেক দূর। কয়েক লক্ষ মানুষের নাম তালিকা থেকে সাময়িকভাবে বাদ যাওয়ায় জনমনে ভয় ঢুকেছে। সেই ক্ষোভ ও আতঙ্ককে পুঁজি করেই রটেছে এই বিভ্রান্তিকর খবর যে, এবার ভোট না দিলে চিরতরে নাম বাদ পড়বে তালিকা থেকে।
কী জানাচ্ছে নির্বাচন কমিশন? এই বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো প্রকাশ্য বিবৃতি দেওয়া না হলেও, সূত্র মারফত স্পষ্ট জানানো হয়েছে—ভোট না দিলে নাম বাদ যাওয়ার খবরটি সম্পূর্ণ ভুয়ো ও ভ্রান্ত।
কমিশন চায় প্রতিটি নাগরিক ভোটদান করুক, কিন্তু ভোট না দেওয়া কোনোভাবেই তালিকা থেকে নাম কাটার ভিত্তি হতে পারে না।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া আছে (যেমন মৃত্যু বা স্থায়ীভাবে এলাকা ত্যাগ), স্রেফ ভোট না দেওয়া তার মধ্যে পড়ে না।
আতঙ্কে ঘরমুখী পরিযায়ী শ্রমিকরা এই গুজবের জেরেই বহু বছর পর এবার বুথমুখী হচ্ছেন অনেক ‘নিষ্ক্রিয়’ ভোটার। তাঁদের ভয়, ছাব্বিশের এই নির্বাচনে বুথে গিয়ে আঙুলে কালি না লাগালে ভবিষ্যতে নাগরিক পরিচয় সংকটে পড়তে পারে। বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে এই প্রবণতা সবথেকে বেশি দেখা যাচ্ছে।
সম্পাদকীয় বার্তা: গণতন্ত্রে ভোট দেওয়া প্রতিটি নাগরিকের পবিত্র কর্তব্য। তবে সেই কর্তব্য পালন করা উচিত সচেতনভাবে, কোনো কাল্পনিক ভয়ে নয়। নির্বাচন কমিশন এধরণের কোনো নোটিফিকেশন বা নির্দেশিকা জারি করেনি। তাই কোনো গুজবে কান দেবেন না। নির্ভয়ে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করুন।





