দুই দিনের বঙ্গ সফরে এসে ফের একবার নিজের মানবিক রূপ তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার মালদহে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধন সেরে সভাস্থলে পৌঁছলে জনজোয়ার আছড়ে পড়ে। প্রিয় নেতাকে চোখের দেখা দেখতে অনেক সমর্থকই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যারিকেডের ওপর উঠে পড়েন। তা নজরে আসতেই নিজের বক্তব্য থামিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
জনগণের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মানবিক আবেদন জনসভায় ভিড়ের চাপে কেউ যাতে আহত না হন, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি ছিল মোদীর। ব্যারিকেডে উঠে পড়া সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি অত্যন্ত আবেগপূর্ণ স্বরে বলেন, “দয়া করে আপনারা নীচে নেমে যান। আপনাদের ব্যথা লাগলে আমার কষ্ট হবে। আমাকে দেখতে না পেলেও আমার কথা শুনতে পারবেন, আমার হৃদস্পন্দন অনুভব করতে পারবেন। আমার কাছে আপনাদের জীবন অনেক মূল্যবান।” প্রধানমন্ত্রীর এই সংবেদনশীল আচরণে আপ্লুত উপস্থিত জনতা।
পূর্ব ভারতের বিকাশ ও সুশাসনের বার্তা এদিন মালদহ থেকে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের উপহার দেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তাও দেন মোদী। তিনি বলেন:
-
হিংসা বনাম বিকাশ: যারা হিংসার রাজনীতি করে, তারা বাংলার উন্নয়নকে আটকে রেখেছে। বিজেপি এই রাজ্যকে সেই অপশক্তি থেকে মুক্ত করতে বদ্ধপরিকর।
-
বিজেপির ওপর ভরসা: ওড়িশা, ত্রিপুরা, অসম এবং বিহারের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, পূর্ব ভারতের মানুষ এখন বিজেপির সুশাসনেই আস্থা রাখছেন।
-
বাংলার ভবিষ্যৎ: প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “বাংলার চারদিকে এখন বিজেপির সুশাসনের সরকার। এবার বাংলায় বিকাশের গঙ্গা বইবে।”
বিকাশের লক্ষ্যে ‘বিকশিত ভারত’ মোদী স্পষ্ট করে দেন যে, ভারতকে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে পূর্ব ভারতের উন্নয়ন সবথেকে জরুরি। অনুপ্রবেশ এবং কর্মসংস্থানের অভাব নিয়ে বিরোধীদের বিঁধলেও, এদিনের সভার মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়ায় সমর্থকদের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত যত্ন ও ভালোবাসা।