এবার প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরেও “হাত-পা-মুখ” রোগ! ছোঁয়াচে এই ভাইরাস নিয়ে কেন সতর্ক হচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

শিশুদের মধ্যে সাধারণত দেখা যাওয়া “হাত-পা-মুখ রোগ” (HFMD) এখন প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে। আগে মূলত ২ থেকে ৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এই রোগের সংক্রমণ দেখা গেলেও, সম্প্রতি দিল্লি ও এর আশেপাশে যুবক-যুবতী এবং বয়স্কদের মধ্যেও এর লক্ষণ ধরা পড়েছে। এটি একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ, যা বর্ষাকালে আরও দ্রুত ছড়াচ্ছে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
কী এই “হাত-পা-মুখ” রোগ?
এই রোগের মূল কারণ Coxsackievirus, যা একজন থেকে অন্যজনে খুব সহজে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, হাঁচি-কাশি, অথবা দূষিত স্থান স্পর্শ করলে এই ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
লক্ষণ:
জ্বর ও মাথাব্যথা
ক্ষুধা কমে যাওয়া
হাত ও পায়ে ফোসকা বা ফুসকুড়ি
গলা খুশখুশ এবং গলায় ঘা
মুখে, জিভে বা গলায় আলসার
AIIMS ভোপালের জেনারেল মেডিসিন বিভাগের প্রধান, ড. রজনীশ জোশী জানিয়েছেন, এই সংক্রমণ সাধারণত গলা থেকে শুরু হয়ে পরে ত্বকের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
প্রতিরোধ ও চিকিৎসা
ডাক্তারদের মতে, সাধারণত এই সংক্রমণ ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে যদি লক্ষণগুলো না কমে, তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
প্রতিরোধের উপায়:
কোয়ারেন্টিন: আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখুন। শিশু বা প্রাপ্তবয়স্ক, সকলের জন্যই কোয়ারেন্টিন গুরুত্বপূর্ণ।
সতর্কতা: বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
পরামর্শ: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জ্বর ও ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে।
এই সময়ে, শিশুদের স্কুল বা কোচিংয়ে না পাঠানো এবং প্রাপ্তবয়স্কদের অফিস যাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এই সতর্কতাগুলো মেনে চললে রোগের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে।