তিলোত্তমার রাজপথে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অফিসযাত্রীদের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছিল উবার শাটল (Uber Shuttle)। কিন্তু ২ এপ্রিল থেকে হঠাৎই এই পরিষেবা বন্ধ করে দিল সংস্থাটি। ফলে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ, নিউটাউন এবং রাজারহাটের হাজার হাজার আইটি কর্মী ও নিত্যযাত্রীরা চরম সংকটে পড়েছেন। অ্যাপ-নির্ভর এই লাক্সারি বাস পরিষেবা বন্ধ হওয়ায় এখন একটাই প্রশ্ন— ‘অফিস যাব কীভাবে?’
কেন জনপ্রিয় ছিল উবার শাটল?
কলকাতায় মাসে গড়ে প্রায় ১৭ লক্ষ বুকিং হতো এই পরিষেবায়। মাত্র ৬০টি বাস দিয়ে শুরু হলেও চাহিদা তুঙ্গে থাকায় বাসের সংখ্যা বেড়ে হয়েছিল ১৬০টি।
আরামদায়ক সফর: ১৯ থেকে ৫০ আসনের এই বাসগুলিতে দাঁড়িয়ে যাওয়ার কোনও বালাই ছিল না।
অ্যাপ-নির্ভর বুকিং: উবার অ্যাপ থেকেই আগেভাগে সিট বুক করা যেত।
সাশ্রয়ী: ক্যাবের তুলনায় অনেক কম খরচে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও নির্ভরযোগ্য যাতায়াত সম্ভব হতো।
কেন বন্ধ হলো এই পরিষেবা?
সূত্রের খবর, সম্ভবত ফান্ডিং-এর সমস্যা অথবা আশানুরূপ লাভ না হওয়ার কারণেই কলকাতা-সহ দেশের অন্যান্য শহরেও এই শাটল পরিষেবা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উবার। ‘অনলাইন ক্যাব অপারেটর্স গিল্ড’-এর সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রনীল বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, অ্যাপ-বেসড পরিষেবার ওপর নজরদারি চালাতে সরকারের একটি আলাদা দফতর খোলা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে যাত্রীদের এমন বিপাকে না পড়তে হয়।
মুশকিল আসানে রাজ্য সরকারের ‘মাস্টার প্ল্যান’
উবার শাটল বন্ধের দুঃসংবাদের মাঝেই আশার আলো দেখিয়েছেন বিদায়ী পরিবহণ মন্ত্রী তথা জাঙ্গিপাড়া কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী স্নেহাশিস চক্রবর্তী। তিনি জানিয়েছেন:
কলকাতার জন্য ২০০টিরও বেশি নতুন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সিএনজি (CNG) বাস কেনা হয়েছে।
এর মধ্যে ১০০টি বাসের উদ্বোধন ইতিমধ্যে হয়ে গিয়েছে, বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে রাস্তায় নামছে।
দূষণ কমাতে এবং যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য বাড়াতে এই সরকারি বাসগুলি উবার শাটলের অভাব অনেকটাই পূরণ করবে।
বিপাকে আইটি কর্মীরা
বিশেষ করে নিউটাউন ও সেক্টর ফাইভের অফিসযাত্রীরা গত দু’বছর ধরে এই পরিষেবায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। নির্দিষ্ট রুট এবং নির্দিষ্ট সময়ে বাস পাওয়ায় তাঁদের যাতায়াত ছিল অনেক সহজ। এখন সরকারি এসি বাসগুলি সেই সময়সূচী এবং রুট কতটা বজায় রাখতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করছে যাত্রীদের স্বস্তি।





