‘এনাফ ইজ এনাফ!’ অভিষেকের বিরুদ্ধে একের পর এক এফআইআর দেখেই মেজাজ হারাল হাইকোর্ট, বড় নির্দেশ বিচারপতির

তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একের পর এক মামলা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যর এজলাসে ‘সেবাশ্রয়’ মেডিক্যাল ক্যাম্প সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। সেখানে তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে বারবার এফআইআর দায়ের হওয়া নিয়ে চরম বিরক্তি প্রকাশ করে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে এই পরিস্থিতি আর বরদাস্ত করা হবে না।

শুনানি চলাকালীন বিচারপতি ভট্টাচার্য্য কড়া ভাষায় জানান, গত ২১ মে থেকে একই ব্যক্তির এই ধরনের অভিযোগ শুনতে শুনতে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। আদালত থেকে বিশেষ নির্দেশ ছাড়া নতুন করে এফআইআর দায়ের করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, নির্বাচনে পরাজিত হয়ে একজনই ব্যক্তি পরপর ভিত্তিহীন অভিযোগ করে চলেছেন। সেবাশ্রয় ক্যাম্পে মেডিক্যাল স্টুডেন্টদের দিয়ে কাজ করানো এবং চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ প্রসঙ্গে আদালত প্রশ্ন তোলে যে, এই বিষয়ে কি ক্লিনিক্যাল কাউন্সিলের কাছে কোনো নির্দিষ্ট নথি বা অভিযোগ জমা পড়েছে?

রাজ্যের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার দাবি করেন, প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতি ছাড়াই ওই মেডিক্যাল ক্যাম্পে ওষুধ থেকে শুরু করে এক্স-রে মেশিন ব্যবহার করা হয়েছিল এবং ড্রাগ কন্ট্রোলার ওষুধ বাজেয়াপ্ত করেছে। এই ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই মূল অভিযুক্ত বলে দাবি করে রাজ্য। তবে এর জবাবে বিচারপতি বলেন, ঘটনাটি বড়জোর চিকিৎসার গাফিলতি হতে পারে, আর কোনো চিকিৎসক অভিযুক্ত হলে আইন অনুযায়ী তাঁকেও রক্ষাকবচ দিতে হবে।

উভয় পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শোনার পর আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, সেবাশ্রয় মামলায় এখনই কোনো কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। তবে তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়মমাফিক চলবে এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেই তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করতে হবে। আগামী ২৩ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে।