পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপ এবার বুথ ছাড়িয়ে আইনি লড়াইয়ের পথে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাম্প্রতিক ‘উস্কানিমূলক’ মন্তব্যের প্রতিবাদে এবার সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার হুগলির জনসভা থেকে তৃণমূল নেত্রী ঘোষণা করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেবে তাঁর দল।
বিবাদের সূত্রপাত: শাহের সেই ‘হুঁশিয়ারি’
সম্প্রতি হুগলি ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর প্রচার সভা থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘সিন্ডিকেট রাজ’ ও ‘ভাইপো ট্যাক্স’-এর অভিযোগে সরব হন অমিত শাহ। তবে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর একটি মন্তব্য— যেখানে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন:
“নির্বাচনের পর বিজেপি কর্মীদের উপর হামলাকারীদের খুঁজে বের করে মাথা নিচে আর পা উপরে করে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।”
এছাড়াও কলকাতাকে ‘স্লাম সিটি’ বা বস্তির শহর বলে কটাক্ষ করেন তিনি, যা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় ঘাসফুল শিবিরে।
মমতার পাল্টা তোপ ও আইনি পদক্ষেপ
অমিত শাহের এই মন্তব্যকে ‘রাজ্যের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হুগলির সভা থেকে তিনি গর্জে উঠে বলেন:
গণতন্ত্রের পরিপন্থী: “একজন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে এমন হিংসাত্মক ও উস্কানিমূলক কথা তিনি বলতে পারেন না। এটা সম্পূর্ণ গণতন্ত্র বিরোধী।”
আইনি লড়াই: “আমরা এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেব। আদালতে যাব। দেখব, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে কেউ এভাবে বাংলার মানুষকে হুমকি দিতে পারেন কি না।”
বাংলার অপমান: মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন যে, বিজেপি নেতারা সচেতনভাবে বাংলাকে অপমান করে ভোটের ফায়দা লুটতে চাইছেন।
বিজেপির পাল্টা প্রতিক্রিয়া
তৃণমূলের এই আইনি হুঁশিয়ারিকে ‘রাজনৈতিক নাটক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। গেরুয়া শিবিরের দাবি, রাজ্যে যে রাজনৈতিক হিংসা চলছে তার বিরুদ্ধে সতর্ক করা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। বিজেপির রাজ্য সভাপতির কথায়, “মমতা দিদি নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে কেন্দ্রীয় নেতাদের আক্রমণ করছেন, কিন্তু বাংলার মানুষ সব দেখছেন।”
নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার প্রাক্কালে মমতা বনাম শাহের এই দ্বৈরথ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল। এখন দেখার, এই লড়াই শেষ পর্যন্ত আদালতের চৌকাঠ পর্যন্ত গড়ায় কি না।





