পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা থানার এরেন্দাবাদ এলাকায় এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগের তীর নিহত গৃহবধূর স্বামী, শ্বশুর এবং শাশুড়ির দিকে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন।
মৃত গৃহবধূর নাম যমুনা জানা পাল (২৩)। তাঁর বাবা শিবু জানা, পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনের মেনকাপুর এলাকার বাসিন্দা। প্রায় দেড় বছর আগে মেনকাপুর গ্রামের স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর যমুনার সঙ্গে এরেন্দাবাদের পানের ব্যবসায়ী সৌগত পালের দেখাশোনা করে বিয়ে দেওয়া হয়।
পরকীয়ার প্রতিবাদই কি কাল হলো?
জানা গেছে, যমুনা আট মাস ধরে অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এই অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেই তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। যমুনার পরিবারের দাবি, তার শাশুড়ি দুর্গা পালের একটি অবৈধ সম্পর্কের কথা যমুনা জানতে পেরেছিলেন। এই বিষয়ে যমুনা প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন, আর তার জেরেই তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে।
যমুনার বাবা শিবু জানা কান্নায় ভেঙে পড়ে অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়ের শ্বশুর গৌরাঙ্গ পাল প্রতিবন্ধী ছিলেন। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই পণ চেয়ে মেয়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছিল। এর মধ্যেই আমার মেয়ে শাশুড়ির পরকীয়া প্রেমের বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবাদ করেছিল। আর তার জন্যই যে ওরা আমার মেয়েকে এভাবে নৃশংসভাবে খুন করে ফেলবে, তা আমি কখনোই ভাবতে পারিনি। আমরা অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।”
পুলিশের তদন্ত শুরু:
বৃহস্পতিবার তাম্রলিপ্ত মেডিক্যাল কলেজের মর্গে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের পর পুলিশ মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছে। এই নৃশংস খুনের অভিযোগ পাওয়ার পরই এগরা থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্ত স্বামী সৌগত পাল-সহ তার পরিবারের সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।
এই ঘটনা আবারও সমাজে নারী নির্যাতনের চিত্র এবং পারিবারিক কলহের ভয়াবহ পরিণাম তুলে ধরল। এলাকার মানুষ এই ঘটনার দ্রুত বিচার ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।





