“এখানেই কিছু বাকি নেই, দিল্লি যাবেন কী করে?” মমতাকে পালটা খোঁচা শাহের, ভোটের মুখে বিস্ফোরক ‘ডায়েরি’ ফাঁস মুখ্যমন্ত্রীর!

বঙ্গে দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ এবার হিমালয় ছুঁল! একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ‘দিল্লি দখল’-এর হুঙ্কার, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের চাণক্য-সুলভ তাচ্ছিল্য। চৌরঙ্গির জনসভা থেকে মমতার করা আক্রমণের পাল্টা দিয়ে শুক্রবার তিলোত্তমা থেকেই তাঁকে কার্যত উড়িয়ে দিলেন শাহ। ৪ মে-র ফলাফল কী হবে, তা নিয়ে দুই শিবিরের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে।

মমতার ‘দিল্লি চলো’ ডাক ও দালালি তত্ত্ব: বৃহস্পতিবার চৌরঙ্গির সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন। বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ডাক দিয়ে তিনি বলেন:

  • দিল্লি জয়: “বাংলায় জয়ের পর সব দলকে এককাট্টা করে এবার দিল্লি জয় করবই।”

  • তালিকা তৈরি: বিজেপির হয়ে কাজ করা ‘দালালদের’ নাম-ঠিকানা তাঁর কাছে নথিভুক্ত আছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।

  • অধিকারের লড়াই: মমতার সাফ কথা, “বিজেপির আমাদের হারানোর ক্ষমতা নেই। আমি এদেশেই জন্মেছি, এখানেই শেষ নিঃশ্বাস ফেলব।”

হিমশীতল হাসিতে শাহের পাল্টা: মমতার এই বড় দাবির পাল্টা দিতে শুক্রবার কলকাতায় প্রচারে এসে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করেননি অমিত শাহ। স্রেফ এক লাইনের কটাক্ষে তিনি বলেন:

“মমতা দিদি দিল্লিতে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন? বাংলায়ই তো ওঁর আর কিছু বাকি নেই, দিল্লি যাবেন কী করে?”

ভোটের সমীকরণ ও উত্তাপ: প্রথম দফার ভোটে ৯১.৮৩ শতাংশ রেকর্ড ভোটদান বিজেপির আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। আগামী ২৯ এপ্রিল চৌরঙ্গি সহ কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। তার আগে মমতার এই ‘আক্রমণাত্মক’ রণকৌশল এবং শাহের ‘তাচ্ছিল্য’ ভোটারদের মেরুকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।

রাজনৈতিক মহলের বিশ্লেষণ: বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে জাতীয় স্তরের নেত্রী হিসেবে তুলে ধরে বাঙালি আবেগকে উসকে দিতে চাইছেন। অন্যদিকে, শাহ বোঝাতে চাইছেন যে তৃণমূলের পায়ের তলা থেকে বাংলার মাটিই সরে গিয়েছে। ৪ মে-র ব্যালট বাক্সই ঠিক করবে কার হাসি শেষ পর্যন্ত চওড়া হবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy