তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অস্থিরতা যেন থামছেই না। একের পর এক বড় ধাক্কায় কার্যত দিশেহারা ঘাসফুল শিবির। বিধানসভা থেকে দিল্লি—বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়েছে রাজ্য থেকে কেন্দ্রীয় রাজনীতির আঙিনায়। এবার রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তৃণমূল নেতৃত্বকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিলেন সুস্মিতা দেব। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দলের দ্বিতীয় সাংসদ হিসেবে তাঁর এই পদত্যাগ রাজনৈতিক মহলে প্রবল চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এর আগে প্রবীণ নেতা সুখেন্দু শেখর রায় সাংসদ পদ ছেড়ে দলের অস্বস্তি বাড়িয়েছিলেন। এবার সেই একই পথ অনুসরণ করলেন সুস্মিতা।
রাজনীতির কারবারিদের একাংশ মনে করছেন, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন ধরার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সুস্মিতার বিদায় সেই ক্ষতকে আরও গভীর করল। দলের অন্দরের কোন্দল এবং শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে যে ক্ষোভ দীর্ঘ দিন ধরে দানা বাঁধছিল, তারই বহিঃপ্রকাশ এই ইস্তফা।
উল্লেখ্য, কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক ছিন্ন করে ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছিলেন সুস্মিতা দেব। অসমের শিলচরের প্রাক্তন এই সাংসদকে দলে স্বাগত জানিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছিল তৃণমূল। তাঁকে দলের অন্যতম জাতীয় মুখপাত্র করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে রাজ্যসভায় পাঠানো হয়েছিল। তৃণমূলের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সুস্মিতা ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজনদের মধ্যে অন্যতম। কিন্তু দলের প্রতি সেই আস্থা যে ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসছিল, তা সুস্মিতার এই পদত্যাগের সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হলো।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুস্মিতা দেবের মতো একজন অভিজ্ঞ ও পোড় খাওয়া নেত্রীর দলত্যাগ তৃণমূলের কাছে এক বিশাল বড় রাজনৈতিক ক্ষতি। কারণ, অসমের রাজনীতিতে এবং জাতীয় স্তরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা দলকে বাড়তি সুবিধা দিত। কিন্তু ২০২৬-এর নির্বাচনী ফলাফলের পর তৃণমূলের যে টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে অনেকেই মনে করছেন, ভবিষ্যতে আরও বেশ কিছু নেতা-নেত্রী দল ছাড়ার পথে হাঁটতে পারেন।
সুস্মিতা দেব বা সুখেন্দু শেখর রায়ের মতো হেভিওয়েট নেতাদের এই প্রস্থান তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তিকে কতটা দুর্বল করবে, তা সময়ই বলবে। আপাতত, সুস্মিতার পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হতে চলেছে এবং তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই ভাঙন রুখতে কী ধরনের পাল্টা রণকৌশল গ্রহণ করেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।





