বিশ্বজুড়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা? মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন অগ্নগর্ভ। একদিকে আমেরিকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া ‘ডেডলাইন’, আর অন্যদিকে ইরানের সাধারণ মানুষকে ট্রেন সফর এড়িয়ে চলার জন্য ইজরায়েলি সেনার অভাবনীয় সতর্কতা— সব মিলিয়ে বড় কোনো সামরিক অভিযানের প্রহর গুনছে দুনিয়া।
রেলপথে বিপদ! ইজরায়েলের রহস্যময় বার্তা
মঙ্গলবার ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF) একটি চাঞ্চল্যকর নির্দেশিকায় ইরানের নাগরিকদের সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী ১২ ঘণ্টা যেন কেউ ট্রেনে যাতায়াত না করেন। বিশেষ করে ইরানের স্থানীয় সময় রাত ৯টা পর্যন্ত রেললাইনের আশেপাশে থাকাও অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। সাধারণত বড় কোনো এয়ারস্ট্রাইক বা মিসাইল হামলার আগেই এই ধরণের সুনির্দিষ্ট সতর্কতা জারি করা হয়, যা এখন তেহরানের ঘুম উড়িয়েছে।
“এক রাতেই শেষ হবে ইরান”, হুঙ্কার ট্রাম্পের
আমেরিকার বিদায়ী বা আগত— সব হিসেবেই এখন মধ্যপ্রাচ্যের নিয়ন্ত্রক ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, আমেরিকা চাইলে এক রাতের মধ্যেই ইরানকে গুঁড়িয়ে দিতে পারে। ট্রাম্পের প্রধান দাবি: হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে খুলে দিতে হবে। বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি তেলের সরবরাহ হয় এই পথ দিয়ে। এই দাবি মানার জন্য তিনি ওয়াশিংটন সময় মঙ্গলবার রাত ৮টা (ভারতীয় সময় বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটা) পর্যন্ত চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন।
পিছু হটতে নারাজ ইরান
চাপের মুখে নতি স্বীকার না করে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পালটা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন:
“দেশের ১.৪ কোটির বেশি মানুষ প্রয়োজনে প্রাণ দিতে প্রস্তুত। পরিস্থিতি প্রতিকূল হলে আমরা কেউ পিছিয়ে আসব না।”
ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, কোনো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নয়, বরং তাদের ওপর থেকে সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেই তারা আলোচনায় বসবে।
কেন উদ্বেগ বাড়ছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের ডেডলাইন শেষ হওয়ার ঠিক আগেই ইজরায়েলের এই ‘রেল সতর্কতা’ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরানের পরিবহন ও যোগাযোগ পরিকাঠামোর ওপর বড় কোনো হামলা হতে পারে। হরমুজ প্রণালী যদি বন্ধ থাকে, তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে, যা গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে ধস নামাবে।





