আমের মরশুম শুরু হতেই এরাজ্যের আমের রাজধানী মালদার আমচাষীদের মুখে চওড়া হাসি। এবার আর চিরাচরিত প্রথাগত চাষে আটকে না থেকে, সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক উপায়ে দ্বিগুণ লাভ ঘরে তুলতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছেন জেলার আমচাষীরা। বাজারে নিজেদের উৎপাদিত আমের সেরা দাম নিশ্চিত করতে মালদার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বাগানে বাগানে এখন শুরু হয়েছে এক বিশেষ প্রযুক্তির ব্যবহার, যার নাম ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ (Fruit Bagging)। মূলত পোকার আক্রমণ থেকে আমকে রক্ষা করতে এবং ফলের গুণগত মান আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যেতেই এই বিশেষ পদ্ধতির ওপর ভরসা রাখছেন জেলার কয়েক হাজার চাষী।
মালদা জেলা উদ্যানপালন দফতর সূত্রে খবর, গত কয়েক বছর ধরে পরীক্ষামূলকভাবে এই ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহার করে অভাবনীয় সাফল্য মিলেছে। আর সেই কারণেই চলতি মরশুমে জেলার ইংলিশবাজার, ওল্ড মালদা, রতুয়া ও মানিকচকের মতো প্রধান আম উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতে এই প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
কী এই ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ পদ্ধতি এবং কেন এতেই লক্ষ্মীলাভ?
আম চাষীদের মতে, গাছে আম যখন ঠিক মার্বেল বা লেবুর আকারের হয়, তখনই এক বিশেষ ধরনের দ্বিস্তরীয় কাগজের থলি বা ‘ব্যাগ’ দিয়ে প্রতিটি আমকে আলাদাভাবে মুড়ে দেওয়া হয়। এই পদ্ধতির প্রধান সুবিধাগুলো হলো:
রাসায়নিক মুক্ত চাষ: ব্যাগের ভেতরে আম সুরক্ষিত থাকায় বাইরে থেকে কোনো ক্ষতিকারক কীটনাশক বা রাসায়নিক স্প্রে করার প্রয়োজন পড়ে না। ফলে সম্পূর্ণ অর্গানিক উপায়ে আম পেকে তৈরি হয়।
দাগহীন ও আকর্ষণীয় চেহারা: সরাসরি চড়া রোদ, কুয়াশা কিংবা ঝড়-বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ায় আমের গায়ে কোনো কালচে দাগ পড়ে না। ফলের রঙ এবং টেক্সচার এতটাই নিখুঁত ও আকর্ষণীয় হয় যে, বাজারে দেখামাত্রই তা ক্রেতাদের নজর কাড়ে।
পোকার হাত থেকে ১০০% মুক্তি: আমের সবচেয়ে বড় শত্রু ‘ফ্রুট ফ্লাই’ বা মাছি পোকা। এই ব্যাগিং পদ্ধতির ফলে পোকা ফলের গায়ে বসতেই পারে না, যার ফলে আম পচে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যে নেমে আসে।
আমচাষীদের একাংশ জানিয়েছেন, সাধারণ পদ্ধতিতে চাষ করা আমের তুলনায় এই ফ্রুট ব্যাগিং করা আম বাজারে প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হয়। বিশেষ করে ল্যাংড়া, ফজলি, হিমসাগর এবং আম্রপালি জাতের আমে এই ব্যাগিং করার পর তা ভিন রাজ্যে এবং বিদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রেও বিপুল সাড়া ফেলছে। খরচ সামান্য একটু বেশি হলেও, দিনের শেষে ফলের গুণগত মান এবং আকাশছোঁয়া বাজারের দামের কারণে মালদার আমচাষীদের কাছে এই ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ পদ্ধতিই এখন লাভের নতুন দিশা দেখাচ্ছে।





