এক বোতলেই কেল্লাফতে! ১ বস্তা ইউরিয়ার কাজ করবে ইফকোর এই লিকুইড সার? কৃষকদের জন্য এল বড় খবর

আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে ভারতীয় কৃষিতে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। গতানুগতিক চাষাবাদের ধারণা বদলে দিয়ে এখন কৃষকরা ঝুঁকছেন সাশ্রয়ী ও টেকসই প্রযুক্তির দিকে। এই প্রেক্ষাপটে গেম-চেঞ্জার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ইন্ডিয়ান ফার্মারস ফার্টিলাইজার কো-অপারেটিভ লিমিটেড (ইফকো)-এর উদ্ভাবিত ‘ন্যানো ইউরিয়া লিকুইড’। কৃষকদের ইনপুট খরচ কমিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এটি এখন ভারতের কৃষি অর্থনীতির নয়া দিগন্ত উন্মোচন করছে।

ইফকোর চেয়ারম্যান দিলীপ সাংহানির দূরদর্শী নেতৃত্বে এই ন্যানো ইউরিয়া লিকুইড সারের বাজারে এক বড়সড় বিপ্লব ঘটিয়েছে। কয়েক দশক ধরে ভারতীয় কৃষিতে প্রচলিত ইউরিয়ার ব্যবহার ছিল প্রশ্নাতীত। কিন্তু দেখা গিয়েছে, সাধারণ ইউরিয়া প্রয়োগ করলে তার বড় অংশই বাষ্পীভবন বা ধুয়ে যাওয়ার ফলে নষ্ট হয়ে যায়। এতে কৃষকের আর্থিক ক্ষতি যেমন হয়, তেমনই মাটি ও ভূগর্ভস্থ জলের মারাত্মক দূষণ ঘটে। ইফকোর ন্যানো ইউরিয়া লিকুইড এই সমস্যা সমাধানের অব্যর্থ অস্ত্র। এটি ফসলের পাতার মাধ্যমে সরাসরি নাইট্রোজেন শোষণ করতে সাহায্য করে, যার ফলে অপচয় শূন্যের কাছাকাছি নেমে আসে। সবচেয়ে বড় চমক হল, ন্যানো ইউরিয়া লিকুইডের মাত্র একটি ছোট বোতল চিরাচরিত এক বস্তা ইউরিয়ার সমান কাজ করতে সক্ষম। এর ফলে পরিবহণ ও মজুতকরণের ঝক্কি ও খরচ দুই-ই কমছে।

দিলীপ সাংহানি বরাবরই কৃষকদের ক্ষমতায়ন ও পরিবেশবান্ধব চাষের ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশনায় ইফকো দেশজুড়ে সচেতনতা শিবির, ডিজিটাল ক্যাম্পেইন এবং মাঠ পর্যায়ে প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের শিক্ষিত করে তুলছে। সাংহানির মতে, “ন্যানো ইউরিয়া কেবল একটি পণ্য নয়, এটি ভারতকে কৃষিক্ষেত্রে আত্মনির্ভর করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম।” এটি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলাতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

ইফকোর এই উদ্ভাবন ভারতের আমদানিনির্ভর সারের বাজারের ওপর চাপ কমাচ্ছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কাছে এর সাশ্রয়ী মূল্য এবং ব্যবহারিক সুবিধা এটিকে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তুলেছে। অনেক কৃষকই জানিয়েছেন, ন্যানো ইউরিয়া ব্যবহারের পর তাঁদের ফসলের গুণমান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সমবায় মূল্যবোধ এবং বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষকে এক সুতোয় বেঁধে ইফকো প্রমাণ করে দিয়েছে যে, ভারতীয় মেধা বিশ্বজুড়ে টেকসই কৃষির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। আগামী দিনে এই ন্যানো প্রযুক্তিই হবে সবুজ ও সমৃদ্ধ ভারতের মূল ভিত্তি।