এক ক্লিকেই খুশির জোয়ার! ৭.৫ লক্ষ মানুষের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী ধামী

উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী বুধবার এক অনন্য নজির সৃষ্টি করলেন। রাজ্যের অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে তিনি সমাজকল্যাণ দপ্তরের অধীনে থাকা সাড়ে সাত লক্ষেরও বেশি পেনশনভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এপ্রিল মাসের পেনশনের টাকা এক ক্লিকেই ট্রান্সফার করলেন। সচিবালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী এই ডিজিটাল পেমেন্ট প্রক্রিয়ার সূচনা করেন।

উত্তরাখণ্ড সরকারের এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের ফলে রাজ্যের ৭৫৬,৬৮২ জন পেনশনভোগী সরাসরি উপকৃত হলেন। সরকার মোট ১১১ কোটি ৮২ লক্ষ ৫২ হাজার টাকা সরাসরি ডিবিটি (Direct Benefit Transfer)-র মাধ্যমে বণ্টন করেছে। এই বিশাল অংকের টাকা যাঁদের অ্যাকাউন্টে গিয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বার্ধক্যভাতা প্রাপক, বিধবা, বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি (দিব্যাঙ্গ), প্রান্তিক কৃষক, পরিত্যক্তা নারী এবং বামন পেনশন প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা। এছাড়াও তিলু রৌতালি এবং ভরণপোষণ অনুদান প্রকল্পের আওতাধীন ব্যক্তিরাও এই পেনশনের সুবিধা পেয়েছেন।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী বলেন, “আমাদের সরকার অন্ত্যোদয় বা সমাজের শেষ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের কল্যাণে নিবেদিত। অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে দুর্বল শ্রেণির ক্ষমতায়নই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।” তিনি আরও জানান যে, প্রতিটি যোগ্য ব্যক্তি যাতে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পান, তার জন্য রাজ্যে নিয়মিত ক্যাম্প বা শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছে। যার ফলস্বরূপ প্রতি বছর ৬০ হাজারেরও বেশি নতুন নাম পেনশন তালিকায় যুক্ত হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন আধিকারিকদের বিশেষ নির্দেশ দেন যাতে ৫৯ বছর পূর্ণ হওয়া ব্যক্তিদের অগ্রিম সমীক্ষা করা হয়। এর ফলে তাঁদের ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ার সাথে সাথেই কোনো রকম আইনি জটিলতা ছাড়াই সরাসরি পেনশনের সুবিধা শুরু করা সম্ভব হবে। এছাড়া পেনশনভোগীদের সুবিধা-অসুবিধা জানতে একটি কল সেন্টার চালুর প্রস্তাবও দেন তিনি। উত্তরাখণ্ডের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী খজান দাস এই সময় উপস্থিত থেকে জানান যে, ধামী সরকারের নেতৃত্বে রাজ্যে পেনশন বন্টন ব্যবস্থায় ১০০ শতাংশ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হচ্ছে। এই অনুষ্ঠানে রাজ্যের একাধিক শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy