এক কোটি চাকরি, ৭টি বিমানবন্দর! ভোটের আগে এনডিএ-র ‘জুমলা পত্র’, কেন মাত্র ১ মিনিটে মঞ্চ ছাড়লেন নাড্ডা-ডোভালরা?

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে এনডিএ জোটের ইস্তাহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারকে কিছুই বলতে দেওয়া হয়নি! আর এই ঘটনা নিয়েই এনডিএ নেতাদের তীব্র সমালোচনা করেছে কংগ্রেস। কংগ্রেসের অভিযোগ, এই দৃশ্য আসলে বিহার এবং বিহারীদের অপমান করার সামিল।

শুক্রবার বিহারে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট তাদের ইস্তাহার প্রকাশ করে, যেখানে এক কোটি চাকরির পাশাপাশি একাধিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এরপরই কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অশোক গেহলত দাবি করেন যে, এনডিএ-র সেই ইস্তাহার প্রকাশ অনুষ্ঠানটি মাত্র ২৬ সেকেন্ডের ছিল। তাঁর ব্যাখ্যা, এনডিএ নেতারা বিহারে তাদের ২০ বছরের শাসনকাল সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে ভয় পান, তাই এমন ঘটনা।

নীতিশকে চুপ করানো হলো? মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার, উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী, বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, জিতন রাম মাঝি, চিরাগ পাসোয়ান সহ জোটের অন্যান্য শরিক নেতারা এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে ইস্তাহার প্রকাশ করেন। এরপর উপমুখ্যমন্ত্রী ছাড়া কার্যত কেউই কোনও কথা না বলে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীও উপস্থিত সাংবাদিকদের কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েই মঞ্চ ছাড়েন। ইস্তাহার প্রকাশ মঞ্চ থেকে তাড়াহুড়ো করে জানানো হয় যে, নির্বাচন-সম্পর্কিত ব্যস্ততা থাকার জন্যই নেতাদের চলে যেতে হচ্ছে।

অশোক গেহলত দাবি করেন, “এনডিএ নেতারা মাত্র ২৬ সেকেন্ডের জন্য এসেছিলেন। তাঁরা আসলে ইস্তাহার এবং সাংবাদিকদের তাদের শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে ভয় পেয়েছিলেন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইস্তাহার প্রকাশের সময় মুখ্যমন্ত্রীকেও কথা বলতে দেওয়া হয়নি। গেহলতের কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী হয়তো এই বিষয়ে কথা বলার অবস্থানে নেই।” কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ অখিলেশ প্রসাদ সিং আরও আক্রমণাত্মক হয়ে বলেন, “নীতিশ কুমারকে ইস্তাহার সম্পর্কে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। এটি বিহার এবং বিহারীদের প্রতি অসম্মানজনক।”

প্রতিশ্রুতি বনাম ‘জুমলা পত্র’: এনডিএ-র ইস্তাহারে এক কোটি যুবকের জন্য চাকরি, এক কোটি ‘লক্ষপতি দিদি’ তৈরি, চারটি শহরে মেট্রো পরিষেবা, সাতটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সাতটি এক্সপ্রেসওয়ে এবং ১০টি শিল্প পার্ক তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

প্রতিশ্রুতিগুলিকে কটাক্ষ করে আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব এটিকে এনডিএ-র ‘জুমলা পত্র’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “আসলে, এটিকে ‘ভুয়ো পত্র’ বলা উচিত, কারণ ক্ষমতাসীন জোটের নেতারা গত ২০ বছরে বিহারের জনগণের জন্য কিছুই করেননি। তাদের জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। প্রতিশ্রুতি দেওয়ার মতো কিছুই ছিল না, যে কারণে এটি মাত্র ৩০ সেকেন্ডের জন্য ছিল।”

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy