একুশে জুলাইয়ের আগে হাইভোল্টেজ নাটক! তৃণমূল নেতা অসিত মজুমদারকে ‘আটক’ ঘিরে তুলকালাম!

আজ ঐতিহাসিক একুশে জুলাই উপলক্ষে কলকাতার ধর্মতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের মেগা সমাবেশে যোগদানের ঠিক প্রাক্কালে রাজ্য রাজনীতিতে এক চরম চাঞ্চল্যকর ও নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী ধর্মতলার সভা সফল করতে যখন জোরকদমে প্রস্তুতি চলছিল, ঠিক তখনই হুগলি জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদারকে আটক করার গুরুতর অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে। এই আকস্মিক পদক্ষেপে দলের অন্দরে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের আগুন দাউদাউ করে জ্বলে উঠেছে।
প্রশাসনিক ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী মঙ্গলবার সকালে কলকাতার ঐতিহাসিক বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার জন্য নিজের বাসভবনে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন প্রবীণ এই রাজনৈতিক নেতা। ঠিক সেই মুহূর্তে আজ সকাল আনুমানিক ৭টা ১৫ মিনিটে চুঁচুড়া থানা থেকে পুলিশের একটি বিশেষ দল আচমকাই তাঁর বাড়িতে হাজির হয়। এরপর কোনওোরকম পূর্বসূচনা ছাড়াই তাঁকে জোরপূর্বক চুঁচুড়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ। প্রিয় নেতার আটকের খবর চাউর হতেই মুহূর্তের মধ্যে থানার বাইরে জড়ো হন শত শত তৃণমূল কর্মী ও অনুগামী। পুলিশি এই ভূমিকার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। অনুগামীদের সাফ অভিযোগ, মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক একুশে জুলাইয়ের শহিদ স্মরণের মহাসভায় হাজার হাজার কর্মী নিয়ে অসিত বাবুর উপস্থিতি নিশ্চিতভাবেই কোনো প্রভাবশালী মহলের গাত্রদাহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেই বিশাল জনস্রোত বানচাল করতে এবং রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতেই পুলিশকে ব্যবহার করে সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে পুরনো এক মামলার অজুহাতে তাঁকে আটকে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে এই আটকের পেছনে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি আইনি কারণ তুলে ধরা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে প্রকাশ, সম্প্রতি সিবিআই আধিকারিকের ভুয়ো পরিচয় দিয়ে অসিত বাবুর চুঁচুড়ার বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের চেষ্টার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছিল। সেই সংক্রান্ত তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই হাবরা এলাকা থেকে অশোক রায় নামক এক যুবককে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃত ওই যুবককে সরাসরি চিহ্নিত করার জন্য এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রবীণ নেতাকে থানায় তলব করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে পুলিশ প্রশাসন। একই দিনে অভিযুক্তকে চুঁচুড়া জেলা আদালতে পেশ করার কথা থাকায় এই তলব অত্যন্ত জরুরি ছিল বলে প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে পুলিশের এই সাফাই মানতে নারাজ অসিতপন্থী ও তৃণমূলের চুঁচুড়ার কোদালিয়া অঞ্চলের যুব সভাপতি পবিত্র মিস্ত্রি। তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিযোগ করেছেন যে, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার অসৎ উদ্দেশ্যেই প্রাক্তন বিধায়ককে চুঁচুড়া থানায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়েছে। তাঁর স্পষ্ট কথা, যেভাবে অসিত মজুমদারের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে হুগলি জেলা থেকে হাজার হাজার তৃণমূল কর্মী ও সমর্থক একুশে জুলাইয়ের মহাসভায় যোগ দেওয়ার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছিলেন, তাতে চরম ঈর্ষান্বিত হয়ে বিরোধীরা এই চক্রান্তের জাল বুনেছে। একুশের বিশাল জনসমাবেশ পণ্ড করার সুপরিকল্পিত ছক কষেই পুলিশের কাঁদুনে গ্যাস বা আইনি গেরোয় তাঁদের প্রিয় নেতাকে আটকে রাখা হয়েছে বলে জোরালো দাবি করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত মাসের ২৭ ও ২৯ তারিখে সিবিআই অফিসার সেজে কিছু দুষ্কৃতী অসিতের চুঁচুড়ার বাড়িতে হানা দিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করেছিল। সেই হাইপ্রোফাইল মামলার জট কাটাতে এবং অভিযুক্তকে শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই এদিন পুলিশ এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তবে এই ঘটনার নেপথ্য সুতো যে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ওপর নির্ভরশীল, তা নিয়ে বিরোধী শিবিরকে কাঠগড়ায় তুলতে বিন্দুমাত্র পিছপা হননি তৃণমূল নেতৃত্ব। একুশে জুলাইয়ের পবিত্র মঞ্চে যোগদানের ঠিক আগের মুহূর্তে এই আকস্মিক পুলিশি তৎপরতা এবং শাসক দলের নেতার আটকের ঘটনা সমগ্র রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে দিয়েছে।