একবার নয়, বারবার নিম্নচাপ! দিঘার মৎস্য শিল্পে চরম বিপর্যয়, ট্রলার মালিকদের মাথায় ঋণের বোঝা, সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে জেলেরা

বঙ্গোপসাগরে একের পর এক নিম্নচাপ ও ঘূর্ণাবর্তের জেরে কার্যত বিপর্যস্ত দিঘার উপকূলীয় মৎস্য শিল্প। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সমুদ্রের অস্বাভাবিক আবহাওয়ার কারণে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলি সমুদ্রে টিকতে পারছে না, ফলে উপকূলে ফিরতে হচ্ছে খালি হাতেই। এতে চরম সংকটে পড়েছেন মৎস্যজীবীরা, আর ঋণের বোঝায় জর্জরিত ট্রলার মালিকরা দাঁড়িয়েছেন দিশাহারা অবস্থায়।
ট্রলার মালিকদের নাভিশ্বাস
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রে মাছ ধরতে নামা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। যে ক’টি ট্রলার সাহস করে পাড়ি দিয়েছে, সেগুলিও মাঝপথেই ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে।
এক ট্রলার মালিকের কথায়, “একের পর এক আবহাওয়া খারাপের কারণে আমরা প্রচুর ক্ষতির মুখে পড়ছি। সমুদ্রে গিয়ে মাছ না পেয়ে ফিরে আসতে হচ্ছে, কিন্তু ব্যাংকের ঋণ তো কমছে না। এখন পরিস্থিতি এমন যে অনেকেই হয়তো ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন।”
মৎস্যজীবীদের অবস্থাও একইরকম করুণ। একজন স্থানীয় মৎস্যজীবীর দাবি, “কিছুদিন আগে একটু মাছ ধরা শুরু হলেও, আবার নিম্নচাপের কারণে সমুদ্রে নামা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এখন হাতে কাজ নেই, সংসার চালানোই মুশকিল।”
বাজারে দ্বিগুণ হলো দাম
সাধারণত অক্টোবর-নভেম্বর মাস দিঘা, শংকরপুর ও তাজপুর উপকূলে মাছ ধরার প্রধান মৌসুম। ভেটকি, বোম্বিল, টোপসে, পার্সে-র মতো সামুদ্রিক মাছে বাজার ভরে ওঠে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। মাছ ধরা প্রায় বন্ধ থাকায় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারে।
মাছের যোগান কমে যাওয়ায় বাজারে দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। দিঘার এক পাইকার জানান, “যে মাছ কেজিপ্রতি ৩০০ টাকায় বিক্রি হত, এখন সেটা ৬০০ টাকা ছুঁইছুঁই। সরবরাহ এতটাই কম যে সকালে বাজারে আনা মাছ মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।”
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতির জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে মৎস্য শিল্পে। তাঁরা সতর্ক করেছেন, আগামী শীতকালেও পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলেদের অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রে না নামার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের আশঙ্কা, আগামী এক সপ্তাহ সমুদ্র অস্বাভাবিক উত্তাল থাকবে। সব মিলিয়ে দিঘার মৎস্য অর্থনীতি এখন এক গভীর সঙ্কটে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হলে আগামী মৌসুমেও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।