ভারতের আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার শোক এখনও টাটকা। তার রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র একদিনের ব্যবধানে এয়ার ইন্ডিয়ার আরেকটি ফ্লাইটে বোমা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে, যা যাত্রী ও বিমান পরিষেবা উভয় ক্ষেত্রেই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। শুক্রবার (১৩ জুন) সকালে থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট এআই৩৭৯-এ উড়ন্ত অবস্থায় বোমা হামলার হুমকি পাওয়ার পর সেটি জরুরি অবতরণ করেছে বলে জানিয়েছে থাইল্যান্ডের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
আকাশে উদ্বেগ: ফুকেট থেকে দিল্লিগামী ফ্লাইটে বোমা আতঙ্ক
স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ফুকেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির উদ্দেশে যাত্রা করেছিল এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট এআই৩৭৯। কিন্তু উড্ডয়নের পরপরই আন্দামান সাগরের ওপর দিয়ে ঘুরে ফুকেট দ্বীপে ফিরে এসে জরুরি অবতরণ করে।
থাইল্যান্ডের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানের ১৫৬ জন যাত্রীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে বোমা হামলার হুমকির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এই ঘটনায় এয়ার ইন্ডিয়াও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, যা রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে।
ভয়াবহ স্মৃতি ফিরিয়ে আনা: এআই১৭১-এর দুঃস্বপ্নের পর নতুন আতঙ্ক
এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন মাত্র একদিন আগে ভারতের গুজরাটে এয়ার ইন্ডিয়ার এআই১৭১ ফ্লাইট দুর্ঘটনায় ২৪১ জন আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার প্লেনটি উড্ডয়নের দুই মিনিটের মধ্যেই আহমেদাবাদের একটি মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসের ওপর ভেঙে পড়েছিল। সেই ভয়াবহ স্মৃতির রেশ এখনো গোটা দেশের মনে দগদগে, আর এর মধ্যেই নতুন করে বোমা আতঙ্ক বিমান যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ভয়ের সঞ্চার করেছে।
ক্রমবর্ধমান এই ঘটনাপ্রবাহ ভারতের বিমান পরিষেবা এবং যাত্রী নিরাপত্তাকে ঘিরে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। যাত্রীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন – আকাশপথ কি সত্যিই নিরাপদ? নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এবং বিমান সংস্থা উভয়ই এই হুমকিগুলির উৎস এবং উদ্দেশ্য খুঁজে বের করতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিও বিমান চলাচল খাতে এক নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে, যা সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এই ঘন ঘন দুর্ঘটনা এবং আতঙ্ক ভারতীয় বিমান শিল্পের জন্য এক কঠিন পরীক্ষার সময় এনেছে।