একই সময়ে ভারতের ১১ রাজ্যে রবীন্দ্র-বন্দনা! ১১০০ শিল্পীর সুরেলা মহাযজ্ঞে সৃষ্টি হলো বিশ্বরেকর্ড

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তীকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০২৬ সালের ১০ মে ভারত এক অভাবনীয় ও অভূতপূর্ব সাংস্কৃতিক মহাযজ্ঞের সাক্ষী থাকল। দেশের ১১টি রাজ্যে একই সময়ে, একই সুরে বেজে উঠল রবীন্দ্রসংগীত। বিশিষ্ট সঙ্গীত পরিচালক অরুন্ধতী দেবের সুনিপুণ পরিকল্পনায় এবং ‘সঙ্গীত ভারতী মুক্তধারা’র উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মূল শিরোনাম ছিল ‘শতকণ্ঠে সহস্রকণ্ঠ’ এবং উপ-শিরোনাম ছিল ‘চিরনুতন’। ভারতজুড়ে ছড়িয়ে থাকা রবীন্দ্র-অনুরাগীদের এক সুতোয় বাঁধতে এই ব্যতিক্রমী আয়োজনটি আধুনিক সংস্কৃতির ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করল।

১১টি রাজ্য, ১১০০ শিল্পী ও ডিজিটাল বিপ্লব
১০ মে, রবিবার সন্ধ্যা ঠিক সাড়ে ছ’টায় ভারতের উত্তর থেকে দক্ষিণ এবং পূর্ব থেকে পশ্চিম—সব প্রান্তেই সুরের মূর্ছনা ছড়িয়ে পড়ে। পশ্চিমবঙ্গ, নিউ দিল্লি, নভি মুম্বই, কর্ণাটক, চেন্নাই, তেলেঙ্গানা, অসম, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড়—এই ১১টি রাজ্যে একযোগে শুরু হয় রবীন্দ্র জয়ন্তী পালন। প্রতিটি শহর থেকে ১০০ জন করে মোট ১১০০ শিল্পী এই বিশাল আয়োজনে অংশ নেন। আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় প্রতিটি অডিটোরিয়ামে বড় স্ক্রিন লাগিয়ে অন্য ১০টি রাজ্যের চলমান কনসার্টের ‘লাইভ’ দৃশ্য প্রদর্শিত হয়। ফলে শিল্পী ও শ্রোতারা ভিন্ন রাজ্যে থেকেও অনুভব করেছেন এক অখণ্ড সুরের আকাশ।

কলকাতার নজরুল মঞ্চ থেকে হায়দরাবাদের নিগামাগমম
কলকাতার নজরুল মঞ্চে যখন অরুন্ধতী দেবের পরিচালনায় কয়েকশ কণ্ঠ গেয়ে উঠছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে হায়দরাবাদের শ্রী সত্য সাই নিগামাগমম ট্রাস্টের অডিটোরিয়ামেও ধ্বনিত হচ্ছিল একই সুর। ১৭টি জনপ্রিয় রবীন্দ্রসংগীত নিয়ে সাজানো এই ৯০ মিনিটের নিরবচ্ছিন্ন কনসার্টটি রবীন্দ্রগানের চিরাচরিত বিশুদ্ধতা বজায় রেখে পরিবেশিত হয়। প্রবাসী বাঙালি থেকে শুরু করে স্থানীয় রবীন্দ্র-অনুরাগী—সবাই এই ডিজিটাল মেলবন্ধনে আপ্লুত হয়ে পড়েন।

পরিচালক অরুন্ধতী দেবের স্বপ্নপূরণ
এই মহতী অনুষ্ঠানের মূল রূপকার অরুন্ধতী দেব বলেন, “২০০৭ সালে গীতবিতান প্রকাশনার ৭৫ বছর পূর্তিতে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ১০০০ কণ্ঠে গান গাওয়ানোর মাধ্যমে এই যাত্রা শুরু হয়েছিল। ২০২৪ সাল থেকে এর রূপ পরিবর্তন করে আমি চেয়েছিলাম রবীন্দ্রনাথের গান ভারতের কোণায় কোণায় ছড়িয়ে দিতে। এবার আমরা সফল হয়েছি।” তিনি আরও যোগ করেন যে, রবীন্দ্রনাথ বিদেশে গিয়ে অনেক শিল্পীকে একসঙ্গে গান গেয়ে শ্রদ্ধা জানাতে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। কবির সেই ইচ্ছাকে মর্যাদা দিতেই এবার ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের এমনকি অবাঙালি শিল্পীদেরও এই রবীন্দ্র-বন্দনায় শামিল করা হয়েছে।

এই অনুষ্ঠানটি কেবল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি হয়ে উঠেছে ভারতের ঐক্য ও সংহতির এক অনন্য প্রতীক। ‘চিরনুতন’ থিমকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই সুর সফর দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে এবং প্রমাণ করে দেয় যে রবি ঠাকুর আজও প্রাসঙ্গিক এবং চিরকালীন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy