উবার-ওলার দিন শেষ! কলকাতায় আসছে কম ভাড়ার সরকারি ‘ভারত ট্যাক্সি’, চালকদের স্বস্তি দিতে বড় পদক্ষেপ

অ্যাপ ক্যাব পরিষেবা দেওয়ার নিরিখে গোটা দেশের তালিকায় এতদিন উবার, ওলা এবং ব়্যাপিডোর মতো বেসরকারি সংস্থাগুলির একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় ছিল। ব্যতিক্রম ছিল না তিলোত্তমা শহর কলকাতাও। কিন্তু এবার সেই চেনা ছবি সম্পূর্ণভাবে বদলাতে চলেছে। কারণ দেশের অন্যান্য মেট্রো শহরের পাশাপাশি এবার কলকাতা শহরেও রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের যৌথ উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে পা রাখতে চলেছে নতুন অ্যাপ ক্যাব পরিষেবা ‘ভারত ট্যাক্সি’ (Bharat Taxi)। বেসরকারি সংস্থাগুলির চড়া কমিশন এবং অতিরিক্ত ভাড়ার জেরে চালক ও যাত্রী উভয়েই দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক শোষণের শিকার হচ্ছিলেন। সেই সমস্যা দূর করতেই এই যুগান্তকারী যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা পরিবহন ক্ষেত্রে এক নতুন বিপ্লব ঘটাতে চলেছে।
কী এই ‘ভারত ট্যাক্সি’ পরিষেবা এবং কীভাবে এটি কাজ করবে? এটি মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সুসংহত জনমুখী প্রকল্প। ‘সহকার ট্যাক্সি কো-অপারেটিভ লিমিটেড’ (Sahakar Taxi Cooperative Limited) নামে একটি কোঅপারেটিভ বা সমবায় সংস্থা মাল্টি-স্টেট কোঅপারেটিভ সোসাইটিজ অ্যাক্ট, ২০০২ (MCCS Act 2002)-এর অধীনে নিবন্ধিত হয়েছে। মূলত এই সংস্থাই সমগ্র পরিষেবাটি পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করছে। এর আগে দিল্লি এবং গুজরাতের মতো রাজ্যগুলিতে অভূতপূর্ব সাফল্য পাওয়ার পর, যেখানে প্রায় ৫১ হাজার গাড়িচালক এই অ্যাপের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করেছেন এবং যাত্রীদের সুবিধার জন্য গুগল প্লে স্টোরে ইতিমধ্যেই বিটা অ্যাপ লঞ্চ করা হয়েছে, ঠিক একই মডেল এবার কলকাতায় রূপায়ণ করা হচ্ছে।
গত রবিবার কলকাতার নিউটাউনে আয়োজিত এক বিশেষ ও মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে এই বিষয়ে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স বিভাগের সঙ্গে ‘ভারত ট্যাক্সি’ বা ‘সহকার ট্যাক্সি কো-অপারেটিভ লিমিটেড’-এর আনুষ্ঠানিকভাবে একটি মেমোরেন্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং বা মৌ (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে কলকাতায় খুব শীঘ্রই পুরোদমে এই পরিষেবা চালু হওয়ার পথ প্রশস্ত হলো। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ ছিল যে বেসরকারি অ্যাপ ক্যাব সংস্থাগুলি গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য ইচ্ছেমতো চড়া ভাড়া দাবি করে। এর ফলে মধ্যবিত্ত যাত্রীদের পকেট ফাঁকা হয়। পাশাপাশি, ক্যাব চালকদেরও একটি বিরাট অংশ আয়ের সিংহভাগ কমিশন হিসেবে বেসরকারি কোম্পানিগুলিকে দিয়ে দিতে বাধ্য হন।
এই যৌথ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো চালকদের সেই অর্থনৈতিক শোষণের হাত থেকে রক্ষা করা এবং বেসরকারি অ্যাপ ক্যাব সংস্থাগুলির উপর তাদের নির্ভরতা চিরতরে কমানো। যেহেতু এই প্রকল্পে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার সরাসরি যুক্ত রয়েছে, তাই সাধারণ যাত্রীরা অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও কম ভাড়ায় উন্নত ক্যাব পরিষেবা উপভোগ করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের যাতায়াতের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে, তেমনই অন্যদিকে বহু বেকার চালক কোনো রকম অতিরিক্ত কমিশন ছাড়াই নিজের গাড়ির সম্পূর্ণ আয় নিজের ঘরে তুলতে পারবেন। পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, ওলা-উবারের একচ্ছত্র বাজারে এই সরকারি উদ্যোগ এক সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি করবে এবং যাত্রীদের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে এটি অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।