উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়ের আকস্মিক পদত্যাগ ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক মহলে যখন তোলপাড় চলছে, তখন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে ধনখড়ের দ্রুত আরোগ্য ও সুস্বাস্থ্যের কামনা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদী লিখেছেন, “জগদীপ ধনখড় দেশকে বিভিন্ন ভূমিকায় সেবা করার সুযোগ পেয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে উপরাষ্ট্রপতির পদও। তাঁর উন্নত স্বাস্থ্যের কামনা করছি।” এই সংক্ষিপ্ত বার্তা থেকে বোঝা যায়, প্রধানমন্ত্রী ধনখড়ের শারীরিক সুস্থতার ওপরই জোর দিতে চেয়েছেন।
তবে, ধনখড়ের পদত্যাগের পর এখন ছয় মাসের মধ্যে পরবর্তী উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই আকস্মিক পদত্যাগ নিয়ে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলি দাবি করেছে যে, জগদীপ ধনখড়ের স্বাস্থ্য সম্পূর্ণ ঠিক ছিল এবং সম্ভবত তিনি কোনো রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে ইস্তফা দিয়েছেন। তাদের এই দাবি পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লিখিত ‘শারীরিক অসুস্থতা’র ওপর সন্দেহ তৈরি করেছে।
সম্প্রতি, উপরাষ্ট্রপতির ডাকা একটি বৈঠকে বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু-র অনুপস্থিতি নিয়ে কংগ্রেস প্রশ্ন তুলেছিল। এই প্রসঙ্গে জে পি নাড্ডা নিউজ১৮ ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন যে, তিনি এবং কিরেন রিজিজু উপরাষ্ট্রপতির ডাকা বিকেল সাড়ে ৪টের বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি কারণ তাঁরা অন্যান্য সংসদীয় কাজে ব্যস্ত ছিলেন। নাড্ডা আরও নিশ্চিত করেছেন যে, তাঁরা এই বিষয়ে উপরাষ্ট্রপতির দফতরকে আগেই জানিয়েছিলেন।
বিরোধীদের এই জল্পনার মধ্যেই ধনখড়ের পদত্যাগ ভারতের রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে যখন কদিন আগেই তিনি ২০২৭ সাল পর্যন্ত উপরাষ্ট্রপতি পদে থাকার কথা বলেছিলেন, তখন এই হঠাৎ সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে এই পদত্যাগের পেছনের প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হয় কিনা।





