উদ্মপুরে জঙ্গি দমন অভিযানে শহিদ পুলিশকর্মী, জইশ-ই-মহম্মদের ৩ জঙ্গির খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি নিরাপত্তা বাহিনীর

জম্মু ও কাশ্মীরের উদমপুর জেলায় ফের জঙ্গি দমন অভিযানে তীব্রতা বাড়াল নিরাপত্তা বাহিনী। মঙ্গলবার ভোর থেকে উদমপুরের মাজালতা এলাকার সোন গ্রামে তিন জঙ্গির খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। একদিন আগেই এই এলাকায় জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে কনস্টেবল অমজদ আলি খান নামে এক পুলিশকর্মী (২২তম ব্যাটালিয়ন) শহিদ হয়েছেন। নিরাপত্তা সূত্রে জানা গিয়েছে, এই তিন জঙ্গি পাকিস্তান-ভিত্তিক জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
সোমবারের সংঘর্ষ ও শহিদ:
সংঘর্ষ: সোমবার সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোন গ্রামে অভিযান শুরু করে স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (SOG), সেনা এবং সিআরপিএফের যৌথ বাহিনী। সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ জঙ্গিরা গুলি চালাতে শুরু করলে দু’পক্ষের তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়।
শহিদ: এই লড়াইয়ে এক জঙ্গি আহত হয় এবং দুই পুলিশকর্মী গুলিবিদ্ধ হন। তাঁদের মধ্যে কনস্টেবল অমজদ আলি খান অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে কর্তব্যরত অবস্থায় শহিদ হন। মঙ্গলবার উদমপুর জেলা পুলিশ লাইনে শহিদ পুলিশকর্মীর মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ নালিন প্রভাত-সহ ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা।
তল্লাশি অভিযান ও বাহিনীর বার্তা:
জম্মু জোনের আইজি ভীম সেন টুটি জানিয়েছেন, প্রাথমিক সংঘর্ষের পর জঙ্গিরা গভীর জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যায়।
“এটি অত্যন্ত ঘন জঙ্গলের এলাকা। সেখানে এখনও তিন জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে বলে আমাদের ধারণা। অভিযান চলছে এবং শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা পিছিয়ে যাব না,” বলেন আইজি ভীম সেন টুটি।
আজকের অভিযান: রাতের অন্ধকারে অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হলেও মঙ্গলবার সকাল হতেই তা নতুন করে শুরু হয়েছে। এলাকায় স্নিফার ডগ, ড্রোন এবং অতিরিক্ত বাহিনী নামানো হয়েছে। জঙ্গিরা যাতে পালিয়ে যেতে না পারে, তার জন্য পুরো অঞ্চল ঘিরে ফেলা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ রুট: নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, উদমপুরের বাসন্তগড় এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গি অনুপ্রবেশের পরিচিত রুট। এই পথ ব্যবহার করেই জঙ্গিরা কাথুয়া অঞ্চল হয়ে ডোডা, কিশতওয়ারের দিকে এগিয়ে যায়।
নিরাপত্তা বাহিনীর স্পষ্ট বার্তা—সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কোনও রকম আপস করা হবে না।