উত্তর কলকাতায় ফের ভেঙে পড়ল জরাজীর্ণ বাড়ি! মর্মান্তিক মৃত্যু প্রৌঢ়ার, আহত ১৯!

নিম্নচাপের জেরে গত দু’দিন ধরে চলা দফায় দফায় অবিরাম বৃষ্টির জেরে ফের বড়সড় দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল তিলোত্তমা কলকাতা। মঙ্গলবার সকালে উত্তর কলকাতার জোড়াবাগান এলাকার একটি জরাজীর্ণ ও পুরনো বহুতল হঠাৎ করেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঊর্মিলা সাহু (৫৫) নামের এক মহিলার করুণ মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া এই ঘটনায় মোট ১৯ জন আহত হয়েছেন। তবে তাঁদের আঘাত গুরুতর না থাকায় স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্ষার মরশুম শুরু হলেই কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা এই বিপজ্জনক ও ভগ্নজীর্ণ বাড়িগুলি পুর কর্তৃপক্ষের কাছে সবসময়ই বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, আর তারই পুনরাবৃত্তি ঘটল এদিনের এই মর্মান্তিক ঘটনায়।
স্থানীয় সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, জোড়াবাগানের ব্রজদুলাল স্ট্রিটের বাসিন্দা ঊর্মিলা দেবী এবং তাঁর ছোট ছেলে যখন বাড়িটি ভেঙে পড়তে শুরু করে, তখন সৌভাগ্যবশত ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন। কিন্তু বড় ছেলে তখন ঘরের ভেতরেই আটকা পড়ে যাওয়ায় তাঁকে বাঁচাতে নিজের জীবনের পরোয়া না করেই ফের ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন ওই প্রৌঢ়া। ছেলে অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও, ঠিক সেই মুহূর্তেই বাড়ির একটি ভারী অংশের চাঙড় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে এবং তার নিচে চাপা পড়ে যান ঊর্মিলা দেবী। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ওই ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িতে বেশ কিছু বাণিজ্যিক জোন বা দোকানও ছিল বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত রাত থেকেই বাড়িটির বিভিন্ন অংশ থেকে টুকরো টুকরো অংশ খসে পড়ছিল। তবে মঙ্গলবার ভোরে আচমকাই বাড়িটির পেছনের অংশটি মারাত্মক শব্দে ভেঙে পড়ে। এই আকস্মিক বিপর্যয়ে মোট ১৯ জন আহত হন। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে হাত লাগায় কলকাতা পুলিশের ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ (DMG), কুইক রেসপন্স টিম (QRT) এবং দমকল বাহিনী। এরপর পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF)-র একটি বিশেষ দলও। ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে আনা হয় প্রশিক্ষিত কুকুরও।
কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, এই বিপজ্জনক বাড়িটিকে পুর কর্তৃপক্ষের তরফে আগেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ও ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে দুর্ঘটনা ঘটার পর পুর কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগী হয়ে বাড়িটির বাকি থাকা অংশটুকুও সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলার কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উদ্ধারকাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর অবিলম্বে বুলডোজার ও অন্যান্য সরঞ্জামের সাহায্যে ভেঙে পড়া চাঙড়সহ সমস্ত জঞ্জাল ও আবর্জনা রাস্তা থেকে সরিয়ে সাফ করার কাজ শুরু করবে পুরসভা। এই ঘটনায় উত্তর কলকাতার পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িগুলির নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ফের একরাশ আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।