“উত্তরাখণ্ডের জঙ্গল বাঁচাতে মোদী সরকারের বড় পদক্ষেপ! খনি মাফিয়াদের রুখে দিয়ে ১৯টি প্রস্তাব খারিজ”

হিমালয়ের কোলে উত্তরাখণ্ডের সবুজ অরণ্য ও বন্যপ্রাণীদের আবাস্থল রক্ষা করতে এবার এক নজিরবিহীন ও কঠোর সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। উত্তরাখণ্ডের বিভিন্ন বনাঞ্চলে খনি খননের জন্য আসা ১৯টি বড় প্রস্তাব একযোগে খারিজ করে দিল জাতীয় বন্যপ্রাণী বোর্ড (National Board for Wildlife)। এই সিদ্ধান্তের ফলে সুরক্ষিত হলো উত্তরাখণ্ডের গর্ব রাজাজি টাইগার রিজার্ভ এবং বেনোগ অভয়ারণ্যের স্পর্শকাতর এলাকাগুলি।

কেন এই কঠোর অবস্থান? পরিবেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর, বিভিন্ন খনি সংস্থা উত্তরাখণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চলে খননকার্য চালানোর জন্য আবেদন করেছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞ কমিটি এবং বন্যপ্রাণী বোর্ড মনে করছে:

  • জীববৈচিত্র্যের সংকট: খনি প্রকল্পগুলো চালু হলে রাজাজি ও বেনোগ অভয়ারণ্যের বাস্তুতন্ত্র এবং হাতি-বাঘের মতো বন্যপ্রাণীদের যাতায়াতের পথ (Corridor) মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো।

  • ভূ-প্রাকৃতিক বিপর্যয়: উত্তরাখণ্ড গত কয়েক বছরে একাধিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সাক্ষী থেকেছে। পাহাড়ে নতুন করে খননকাজ চালালে ধস এবং ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বাড়ত।

রাজাজি ও বেনোগ অভয়ারণ্যের গুরুত্ব:

  • রাজাজি টাইগার রিজার্ভ: এটি বাঘ এবং এশীয় হাতির অন্যতম প্রধান বিচরণস্থল। খনি প্রকল্পের কারণে এখানকার জলাশয় ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

  • বেনোগ অভয়ারণ্য: বিরল প্রজাতির পাখি ও পাহাড়ি ছাগলের জন্য পরিচিত এই এলাকাটি পর্যটকদের কাছেও অত্যন্ত জনপ্রিয়। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় থাকল।

পরিবেশপ্রেমীদের জয়: কেন্দ্রীয় সরকারের এই সাহসী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা। তাঁদের মতে, শিল্পের উন্নয়নের চেয়েও বর্তমানে হিমালয়ের ভূ-প্রকৃতি এবং বন্যপ্রাণীদের বাঁচানো অনেক বেশি জরুরি। বন্যপ্রাণী বোর্ডের এই কড়া বার্তায় স্পষ্ট যে, অভয়ারণ্যের বাফার জোনে কোনোভাবেই বাণিজ্যিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না।

এক নজরে: ১৯টি প্রস্তাব খারিজের মাধ্যমে কেন্দ্র বার্তা দিল যে— উন্নয়নের মূল্য হিসেবে প্রকৃতিকে বাজি রাখা যাবে না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy