“উত্তরবঙ্গ এখন দুর্ভেদ্য দুর্গ! প্রথম দফার ভোটে শিলিগুড়ি থেকে জলপাইগুড়ি— মোতায়েন ৭৮৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী”

আগামীকাল ২৩ এপ্রিল, বাংলার মহাযুদ্ধের প্রথম দফার নির্বাচন। আর এই প্রথম দফাতেই উত্তরবঙ্গের ভাগ্য নির্ধারণ হতে চলেছে। ভোট শান্তিপূর্ণ ও অবাধ করতে নির্বাচন কমিশন কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ। শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে মোতায়েন করা হয়েছে রেকর্ড ৭৮৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। আজ রাত থেকেই সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা এবং বুথগুলিতে শুরু হয়েছে কড়া পাহারা।

বাহিনীর বিন্যাস ও নজরদারি: নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, উত্তরবঙ্গের সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘনত্ব বাড়ানো হয়েছে। বাহিনীর বিন্যাস কিছুটা এইরকম:

  • শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকা: শুধুমাত্র শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট এলাকাতেই মোতায়েন রয়েছে প্রায় ৪৪ কোম্পানি বাহিনী। শিলিগুড়ি মহকুমা এবং ডুয়ার্সের বিভিন্ন এলাকায় রুট মার্চ চলছে।

  • অন্যান্য জেলা: জলপাইগুড়িতে ৯২ কোম্পানি, আলিপুরদুয়ারে ৭৭ কোম্পানি এবং পাহাড়ের দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলাতেও কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।

  • সীমান্ত সিল: ভারত-বাংলাদেশ এবং নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলিতে বিএসএফ ও এসএসবি-র টহল বাড়ানো হয়েছে যাতে কোনোভাবেই অনুপ্রবেশ বা অশান্তি না ঘটে।

কেন এই বিপুল বাহিনী? অবাধ ও ভয়মুক্ত ভোট নিশ্চিত করাই কমিশনের মূল লক্ষ্য। গত কয়েক দিনের রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সংবেদনশীল বুথগুলির ম্যাপিং করার পর এই ৭৮৮ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বুথেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর সশস্ত্র জওয়ানরা থাকবেন। এছাড়াও মোতায়েন থাকছে রাজ্য পুলিশও।

শিলিগুড়িতে বিশেষ সতর্কতা: শিলিগুড়ি যেহেতু উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার, তাই এখানকার প্রতিটি নাকা পয়েন্টে চলছে তল্লাশি। বাইক বাহিনীর দাপট রুখতে এবং বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে রাত থেকেই ধরপাকড় শুরু করেছে বাহিনী। সেক্টর অফিসগুলোতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছেন।

এক নজরে: উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে এবার নজিরবিহীন নিরাপত্তা। সকাল ৭টা থেকে শুরু হবে ভোটগ্রহণ, আর তার আগে কার্যত নিশ্ছিদ্র ঘেরাটোপে উত্তরবঙ্গ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy