উত্তরবঙ্গে মৃত্যুমিছিল, মৃতের সংখ্যা ২০! লুটের অভিযোগ তুলে পৃথক রাজ্যের দাবিতে জোর শমীক ভট্টাচার্যের, কী বললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়?

রাতভর প্রবল বর্ষণ ও ধসের জেরে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে প্রকৃতির তাণ্ডবে এখনও পর্যন্ত ২০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। তিস্তা ও তোর্সা-সহ বিভিন্ন নদীর জল বিপদসীমা অতিক্রম করেছে, বন্ধ বহু জাতীয় সড়ক ও টয় ট্রেন পরিষেবা। এই চরম বিপর্যয়ের আবহে রেড রোডে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্নিভাল উদযাপন নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানালেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

কার্নিভ্যাল নিয়ে শমীকের কড়া তোপ
রবিবার বিকেলে যখন রেড রোডে প্রতিমা কার্নিভাল শুরু হয়েছে, তখন শমীক ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই শোক ও বিপর্যয়ের আবহে কার্নিভাল স্থগিত রেখে মুখ্যমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গে যাওয়া উচিত ছিল।

শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “এই শোক, বিপর্যয়ের আবহে উত্তরবঙ্গের কাছে এই বার্তা দেওয়া উচিত ছিল যে, উত্তরের সঙ্গে দক্ষিণের একটা নাড়ির টান রয়েছে। তাই আজ প্রতিমা কার্নিভাল স্থগিত রেখে মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গে যেতে পারতেন। কিন্তু তিনি গেলেন না। কাল যাচ্ছেন।”

তিনি আরও তোপ দেগে বলেন, “দক্ষিণবঙ্গের মুষ্টিমেয় মানুষ উত্তরবঙ্গকে লুট করছে। পৃথক রাজ্যের দাবি ওঠার নেপথ্যে তাঁদের ব্যথা, অভিমান, বঞ্চনার কথা চিন্তা করতে হবে।”

ত্রাণ ও উদ্ধারে নেমেছে তৃণমূল-বিজেপি
এই বিপর্যয়ের আবহে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলই নিজেদের কর্মীদের দ্রুত উদ্ধারকার্যে নামার নির্দেশ দিয়েছে।

বিজেপি: রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দলের সমস্ত ইউনিটকে নির্দেশ দিয়েছেন— ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে উদ্ধার ও ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কাজে নামতে হবে। তিনি জানান, আজ সন্ধ্যা থেকেই বিজেপি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি যাবেন এবং সাধ্যমতো ত্রাণ সামগ্রীর ব্যবস্থা করবেন।

তৃণমূল: তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডেলে পোস্টে জানিয়েছেন, এই কঠিন সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এখন দলের একমাত্র কর্তব্য। তিনি তৃণমূলের প্রত্যেক স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মীকে দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে রাজ্যের বহু পর্যটক সিকিমে আটকে পড়েছেন। তাঁদের উদ্ধারের জন্য ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ বিপ্লব দেব সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান শমীক ভট্টাচার্য।

মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা ও কেন্দ্রীয় শোক
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে টানা নজর রাখছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামিকাল সোমবার তিনি মুখ্যসচিবকে সঙ্গে নিয়ে উত্তরবঙ্গে যাবেন। মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, “যাঁরা উত্তরবঙ্গে ভ্রমণে গিয়েছেন, তাঁরা আপাতত যেখানে আছেন সেখানেই থাকুন। সমস্ত খরচের দায়িত্ব রাজ্য সরকারের।”

এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে শোকপ্রকাশ করে বার্তা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি চলবে আগামী ৭ অক্টোবর পর্যন্ত। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত টাইগার হিল, রক গার্ডেনের মতো পর্যটন কেন্দ্র ও টয় ট্রেন পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।