বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন। গত কয়েক বছরে উত্তরবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠনের বৃদ্ধি হলেও আশানুরূপ ফল হয়নি। বরং সাম্প্রতিক সময়েও উত্তরবঙ্গের মাটিতে ভালো ফল করেছে বিজেপি। এই অবস্থায় বিধানসভা নির্বাচনের আগেই ঘর গোছানোর কাজ শুরু করে দিয়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। কয়েকদিন আগেই এই লক্ষ্যে চা-বলয়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতা তথা বিজেপির প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জন বার্লাকে দলে নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে এবার তাদের আরেক হাতিয়ার হতে চলেছেন উত্তরের প্রভাবশালী নেতা শঙ্কর মালাকার!
তৃণমূলের একটি সূত্র বলছে, উত্তরবঙ্গে সংগঠন শক্তিশালী করতে বুধবার এক গুরুত্বপূর্ণ দলবদল হতে চলেছে। উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ তথা কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ নাম শঙ্কর মালাকার এবার নাম লেখাচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেসে। শাসকদলের এক নেতার কথায়, “সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আজ বিকেল তিনটায় তৃণমূল ভবনে বেশ কয়েকজন কংগ্রেস কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিতে পারেন শঙ্কর মালাকার।” জানা গিয়েছে, এই যোগদান কর্মসূচিতে ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমোদন মিলেছে। ফলে দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বকসির উপস্থিতিতেই এই গুরুত্বপূর্ণ দলবদল অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
শঙ্কর মালাকারের রাজনৈতিক জীবন ও প্রভাব
৭০ বছর বয়সি শঙ্কর মালাকারের রাজনীতিতে প্রবেশ কংগ্রেসি ঘরানার হাত ধরেই। উত্তরবঙ্গে মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি এলাকার বিধায়ক ছিলেন তিনি। ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত, টানা ১০ বছর বিধানসভায় হাত শিবিরের হয়ে জনপ্রতিনিধিত্ব করেছেন। সেই সুবাদে উত্তরবঙ্গের একটা বড় অংশে বিশেষত তফসিলি সম্প্রদায়ের মধ্যে তিনি বেশ প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন। শংকর মালাকারের হাত ধরেই সেখানে কংগ্রেসের সংগঠন এখনও পর্যন্ত যথেষ্ট শক্তিশালী। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল বিপুল সাফল্য পেলেও উত্তরবঙ্গ সেভাবে দাপট দেখাতে পারেনি ঘাসফুল শিবির। যদিও নিজের কেন্দ্রে জিততে পারেননি শঙ্কর মালাকারও। সেখানে জিতেছিলেন বিজেপির আনন্দময় বর্মন। তবে তাঁর সংগঠনের সঙ্গে নিবিড় যোগ এতটুকুও কমেনি।
তৃণমূলের কৌশল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
উত্তরবঙ্গের সংগঠনের দিকে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছিল, এই প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ঘাসফুল শিবিরে নাম লেখাতে পারেন। অবশেষে সেই সম্ভাবনাই সত্যি করে বুধবার তৃণমূল ভবনে এসে শঙ্কর মালাকার ঘাসফুলের পতাকা নিজের হাতে তুলে নেবেন বলে খবর। মনে করা হচ্ছে, শুধু দলবদল নয়, দলবদলের পর এই প্রবীণ কংগ্রেসী নেতাকে উত্তরবঙ্গের সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল কংগ্রেস বারবার চেষ্টা করেও উত্তরবঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে আশানুরূপ ফল করতে পারেনি। এখন দেখার, জন বার্লা ও শঙ্কর মালাকারের দলবদলে, তৃণমূল কংগ্রেসের সেই প্রয়াস কতটা সফল হয়।
এই দলবদল উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণকে প্রভাবিত করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কংগ্রেসের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি বড় ধাক্কা, অন্যদিকে তৃণমূলের জন্য এটি একটি নতুন শক্তি যোগ করবে।