“উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের অন্দরে ফাটল”-চেয়ারম্যান-সহ ৬ কাউন্সিলর যোগ দিলেন কংগ্রেসে

রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহ অব্যাহত। এবার উত্তরবঙ্গের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ পুরসভায় বড়সড় রাজনৈতিক ওলটপালট ঘটল। তৃণমূল কংগ্রেসের হাত থেকে পুরসভাটি ছিনিয়ে নিল কংগ্রেস। দলের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও অস্থিরতার জেরে মেখলিগঞ্জ পুরসভার চেয়ারম্যান প্রভাত পাটনিসহ মোট ৬ জন কাউন্সিলর ঘাসফুল শিবির ছেড়ে হাত শিবিরে যোগ দিয়েছেন।

বিধান ভবনে দলবদল শুক্রবার কলকাতার বিধান ভবনে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের হাত থেকে দলীয় পতাকা গ্রহণ করেন এই নেতারা। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেবপ্রসাদ রায় এবং বিশ্বজিৎ সরকারের মতো কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। ৯টি ওয়ার্ডের ছোট এই পুরসভায় ৬ জন কাউন্সিলর একসঙ্গে দলত্যাগ করায় তৃণমূল কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে এবং পুরবোর্ড এখন পুরোপুরি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।

কেন এই দলবদল? দলবদল প্রসঙ্গে মেখলিগঞ্জ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রভাত পাটনি তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকেই দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘তৃণমূল কংগ্রেসে থেকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু দলের অন্দরের কোন্দলের কারণে কাজ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এছাড়া বিজেপি সরকারের হকার উচ্ছেদ ও ব্যবসায়ী বিরোধী নীতিতেও আমরা ক্ষুব্ধ। সাধারণ মানুষের স্বার্থেই কংগ্রেসে যোগ দিলাম।’’

অন্যদিকে, তৃণমূলের প্রবীণ নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক পরেশ চন্দ্র অধিকারী সাফ জানিয়েছেন, দলবদল নিয়ে তাঁর সঙ্গে প্রভাত পাটনির কোনো আলোচনা হয়নি এবং তিনি নিজে তৃণমূল কংগ্রেসেই অটল রয়েছেন।

পুর-পরিষেবা নিয়ে আশঙ্কা বারাকপুরসহ রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে যেভাবে নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে, মেখলিগঞ্জের সাধারণ বাসিন্দারাও সেই একই আশঙ্কায় ভুগছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোচবিহার জেলায় বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই বিজেপির উত্থান এবং তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে মেখলিগঞ্জের এই ভাঙন কেবল একটি পুরসভার সমস্যা নাকি উত্তরবঙ্গের অন্যান্য পুরসভাতেও এই ‘ডমিনো এফেক্ট’ দেখা দেবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।

পুরবোর্ড কংগ্রেসের দখলে চলে যাওয়ায় প্রশাসনিক কাজকর্ম ও নাগরিক পরিষেবা স্বাভাবিক থাকবে কি না, সেদিকেই এখন নজর সকলের।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy