. উত্তপ্ত শিলিগুড়ি! টোটো থেকে হোটেল— সর্বত্র ‘বয়কট বাংলাদেশ’, পর্যটনের মরশুমে বেনজির উত্তেজনা

নতুন বছরের শুরুতেই পর্যটকদের ভিড়ে যখন উপচে পড়ছে উত্তরবঙ্গ, ঠিক তখনই শিলিগুড়ির বুকে ধরা পড়ল এক নজিরবিহীন উত্তপ্ত ছবি। শিলিগুড়ি জংশন থেকে শুরু করে শহরের প্রতিটি মোড় এখন ‘বয়কট বাংলাদেশ’ (Boycott Bangladesh) আন্দোলনে সরগরম। হোটেলের দরজা থেকে শুরু করে টোটো বা পানের দোকান— সর্বত্রই এখন বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ‘প্রবেশ নিষেধ’ পোস্টার ঝোলানো হয়েছে।

কেন এই বয়কট? এই গণ-অসন্তোষের মূলে রয়েছে বাংলাদেশে দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং হিন্দুদের ওপর চলা ক্রমাগত অত্যাচারের অভিযোগ। শিলিগুড়ির সাধারণ ব্যবসায়ী ও পরিবহণ কর্মীদের সাফ কথা, যতক্ষণ না এই ধরণের ঘটনার সুবিচার হচ্ছে, ততক্ষণ তারা বাংলাদেশি নাগরিকদের কোনো পরিষেবা দেবেন না। অনেক টোটো চালক যাত্রী তুলতে অস্বীকার করছেন, এমনকি অনেক রেস্তোরাঁতেও খাবার মিলছে না ওপার বাংলার নাগরিকদের।

নিরাপত্তার কড়াকড়ি ও ভিসা সমস্যা: পরিস্থিতি সামলাতে শিলিগুড়ি করিডোর জুড়ে পুলিশি তৎপরতা তুঙ্গে। জংশন এলাকায় চলছে কড়া নাকা তল্লাশি। অন্যদিকে, অভিবাসন দফতর সূত্রে খবর, উত্তরবঙ্গের চেকপোস্টগুলো দিয়ে যাতায়াত রেকর্ড হারে কমেছে। বর্তমানে নতুন ভিসা ইস্যু করাও বন্ধ রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলি এই আন্দোলনের বিরোধিতা করলেও, শিলিগুড়ির সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ পর্যটন ও সীমান্ত বাণিজ্যে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।