ব্রিকস মঞ্চে চিনের মুখের ওপর বড় বার্তা মোদীর! খনিজ সম্পদকে অস্ত্র বানানোর বিরুদ্ধে কড়া হুংকার

নয়াদিল্লিতে সদ্য সমাপ্ত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিনে বিশ্ব রাজনীতি ও প্রযুক্তির দুনিয়ায় আলোড়ন ফেলে এক বিশেষ বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই প্রযুক্তি এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থগুলিকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক স্বার্থে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয় বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। সবচেয়ে বড় কথা, চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঠিক পাশেই বসে এই মন্তব্য করায় এর কূটনৈতিক গুরুত্ব যে অনেক বেশি, তা বলাই বাহুল্য। যদিও বক্তব্যে সরাসরি কোনো দেশের নাম নেওয়া হয়নি, তবে বিশ্ব বাণিজ্যে খনিজ সম্পদকে হাতিয়ার করার প্রবণতার দিকেই যে ইঙ্গিত ছিল, তা স্পষ্ট।
বর্তমান সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর শুল্ক নীতি বিশ্ব অর্থনীতিকে যখন অস্থির করে তুলেছে, ঠিক তখনই বিরল মৃত্তিকা বা রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস (Rare Earth Elements)-এর ওপর নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য দেখিয়ে গোটা বিশ্বকে চাপে রেখেছে বেজিং। পরিসংখ্যান বলছে, শুধুমাত্র চীনেই প্রায় ৪৪ মিলিয়ন টন বিরল মৃত্তিকার বিশাল মজুদ রয়েছে। শুধু তাই নয়, আধুনিক প্রযুক্তির মূল ভিত্তি চুম্বক উৎপাদনে একাই প্রায় ৯৪ শতাংশ অংশীদারিত্ব ধরে রেখেছে এই ড্রাগনল্যান্ড।
প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV) এবং অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক্স—সবক্ষেত্রেই এই বিরল মৃত্তিকা অপরিহার্য। অথচ ভারত নিজের প্রয়োজনীয় চুম্বকের প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশের জন্যই পুরোপুরি চিনের ওপর নির্ভরশীল। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এই স্পর্শকাতর জায়গায় চিনের একাধিপত্য যে ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয়, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ব্রিকস সম্মেলনের এই প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই বার্তা ভবিষ্যতের বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞরা।