মেঘের ওপরেও সুপারফাস্ট ওয়াইফাই! মাঝ আকাশে বিমানে কীভাবে চলে ইন্টারনেট? জানুন আসল বিজ্ঞান

দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের চাহিদা এখন আকাশছোঁয়া। গৃহস্থালি, অফিস কিংবা সফর—সবখানেই নিরবচ্ছিন্ন নেট সংযোগের প্রয়োজন। বর্তমানে এয়ার ইন্ডিয়া, এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ কিংবা সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের মতো আন্তর্জাতিক ও দূরপাল্লার বিমান সংস্থাগুলি যাত্রীদের ইন-ফ্লাইট ওয়াইফাই (In-Flight Wi-Fi) ব্যবহারের সুবিধা দিয়ে থাকে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ হাজার ফুট উঁচুতে তীব্র গতিতে ওড়ার সময় বিমানে কীভাবে এই নেট কানেকশন কাজ করে?

প্রধানত দুটি আধুনিক প্রযুক্তির ওপর ভর করে মাঝ আকাশে সচল থাকে ইন্টারনেট ব্যবস্থা:

১. এয়ার-টু-গ্রাউন্ড প্রযুক্তি (Air-to-Ground Technology):

এই ব্যবস্থায় বিমান যখন স্থলভাগের ওপর দিয়ে ওড়ে, তখন ভূপৃষ্ঠে থাকা মোবাইল টাওয়ারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা হয়।

  • কাজের পদ্ধতি: বিমানের নিচের অংশে (Belly) একটি বিশেষ অ্যান্টেনা বসানো থাকে। ভিতরের রাউটারটি বিমানের কামরায় একটি ওয়াইফাই জোন তৈরি করে। ওই অ্যান্টেনাটি নিচে থাকা টাওয়ার থেকে সিগন্যাল গ্রহণ করে যাত্রীদের মোবাইলে নেট সংযোগ পৌঁছে দেয়।

  • সীমাবদ্ধতা: সমুদ্রের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় কিংবা বিমান অতিরিক্ত উঁচুতে উঠলে টাওয়ারের রেঞ্জ না থাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।

২. স্যাটেলাইট ভিত্তিক ইন্টারনেট (Satellite-Based Connectivity):

এটি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও দ্রুতগতির প্রযুক্তি। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে মূলত এই মাধ্যমই ব্যবহার করা হয়।

  • কাজের পদ্ধতি: মহাকাশে থাকা স্যাটেলাইটের সঙ্গে সরাসরি বিমানের অ্যান্টেনার যোগাযোগ ঘটে। সেই স্যাটেলাইটটি আবার ভূপৃষ্ঠে থাকা কোনো গ্রাউন্ড স্টেশনের সঙ্গে যুক্ত থাকে। গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে ডাটা সরাসরি ইন্টারনেটের মূল সার্ভারে পৌঁছায়।

  • সুবিধা: সমুদ্র বা জনমানবহীন এলাকার ওপর দিয়ে ওড়ার সময়ও সিগন্যাল অটুট থাকে এবং স্পিড অনেক বেশি মেলে।

সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা:

স্যাটেলাইট প্রযুক্তি অত্যন্ত শক্তিশালী হলেও মেঘলা আকাশ, প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা মহাকাশে সংযোগে বিঘ্ন ঘটলে ইন্টারনেটের গতি কিছুটা কমতে পারে। তা ছাড়া ফ্লাইটের ওয়াইফাই স্পিডের ওপর নির্ভর করে যাত্রীরা কেবল চ্যাটিং করতে পারবেন না কি এইচডি ভিডিও স্ট্রিম করতে পারবেন।