গত কয়েকদিনের উত্তপ্ত পরিস্থিতি এবং অরাজকতায় কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। এলাকা যখন জ্বলছে, তখন বহরমপুরের তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠানকে কেন দেখা যাচ্ছে না— এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে উঠেছিল সমালোচনার ঝড়। অবশেষে সেই বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে রবিবার সকালে বেলডাঙার মহেশপুর তাতলা পাড়া এলাকায় হাজির হলেন সাংসদ।
মৃত শ্রমিকের বাড়িতে সাংসদ: এদিন বেলডাঙার বিধায়ক হাসানুজ্জামান ও অন্যান্য দলীয় নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় যান ইউসুফ পাঠান। সেখানে মৃত এক পরিযায়ী শ্রমিকের শোকাতুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। পরিজনদের সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি সাংসদ ঘোষণা করেন, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। এই পরিবারের শিশুদের পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়া হবে।”
বিস্ফোরক পরিস্থিতি ও সাংসদের ভূমিকা: বেলডাঙার বর্তমান পরিস্থিতি দেখে গোটা রাজ্য স্তম্ভিত। অশান্তি শুরু হওয়ার পর থেকে সাংসদের ‘অনুপস্থিতি’ নিয়ে বিরোধীরা যখন আক্রমণের ধার বাড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই ময়দানে নামলেন এই প্রাক্তন ক্রিকেটার। তবে এদিন সাংবাদিকদের সামনে এলাকার উন্নয়ন ও মৃত শ্রমিকের পরিবারের পাশে থাকার কথা বললেও, অশান্তির মূল কারণ বা বিশৃঙ্খলা দমনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন সযত্নে এড়িয়ে যান ইউসুফ।
তৃণমূলের অন্দরেও অস্বস্তি? এলাকার মানুষের অভিযোগ ছিল, বিপদের সময় ঘরের ছেলেকে পাশে পাওয়া যাচ্ছে না। এদিন ইউসুফ পাঠানের এই সফরকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ হিসেবেই দেখছেন। একদিকে যেমন তিনি মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, অন্যদিকে ডজন খানেক বিতর্কিত প্রশ্ন থেকে দূরত্ব বজায় রেখে কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন বহরমপুরের সাংসদ।
শহরজুড়ে এখনও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর মাঝে সাংসদের এই সফর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কতটা সহায়ক হয়, এখন সেটাই দেখার।