উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্টে বড় চমক! ফেল করলেও পাশ করাবে সংসদের এই দুই ‘ম্যাজিক’ নিয়ম

অবশেষে অবসান ঘটল প্রতীক্ষার। পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (WBCHSE) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করল ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল। আজ সংসদ ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সভাপতি ড. পার্থ কর্মকার ফলাফলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন। তবে এবারের ফলাফল প্রকাশের চেয়েও বেশি নজর কেড়েছে সংসদের বিশেষ দুটি নিয়ম— ‘৯/১’ এবং ‘৯/২’। এই দুই নিয়মের জেরেই অনেক অনুত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীও পাশের সুযোগ পাবেন বলে জানা গেছে।

৯/১ নিয়ম: ৩ নম্বরের ‘লাইফলাইন’
ড. পার্থ কর্মকার জানান, অনেক সময় দেখা যায় কোনো ছাত্র বা ছাত্রী কোনো একটি বিষয়ে মাত্র কয়েক নম্বরের জন্য অকৃতকার্য হয়েছে। তাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই ৯/১ নিয়ম কার্যকর করা হয়। এই নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো পরীক্ষার্থী কোনো একটি বিষয়ে সর্বোচ্চ ৩ নম্বরের জন্য ফেল করে, তবে তাকে পাশ করিয়ে দেওয়া সম্ভব। সেক্ষেত্রে ওই ছাত্র বা ছাত্রী যে বিষয়ে সবথেকে বেশি নম্বর পেয়েছে, সেখান থেকে ৩ নম্বর কেটে নিয়ে ফেল করা বিষয়ে যোগ করে দেওয়া হয়। একেই সংসদীয় পরিভাষায় ৯/১ নিয়ম বলা হয়।

৯/২ নিয়ম: বিষয় বদলের সুবিধা
উচ্চ মাধ্যমিকের মোট ৬টি বিষয়ের মধ্যে (দুটি ভাষা, তিনটি আবশ্যিক ঐচ্ছিক এবং একটি অতিরিক্ত ঐচ্ছিক) সেরা পাঁচটি বিষয়ের নম্বর নিয়ে রেজাল্ট তৈরি হয়। যদি কোনো পরীক্ষার্থী কোনো একটি আবশ্যিক ঐচ্ছিক বিষয়ে (Compulsory Elective) ফেল করে কিন্তু অতিরিক্ত ঐচ্ছিক বিষয়ে (Optional Elective) পাশ করে থাকে, তবে ৯/২ নিয়ম অনুযায়ী বিষয় দুটি অদলবদল করে দেওয়া হয়। এর ফলে ওই পরীক্ষার্থী সহজেই অকৃতকার্য হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়।

মার্কশিট সারেন্ডারের কড়া নির্দেশ
তবে সংসদ সভাপতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই নিয়মগুলি প্রয়োগের পর কোনো ছাত্র বা ছাত্রী যদি প্রাপ্ত নম্বরে সন্তুষ্ট না হয় এবং আগামী বছর পুনরায় পরীক্ষা দিতে চায়, তবে তাকে বর্তমান মার্কশিট ও সার্টিফিকেট সংসদের কাছে জমা বা ‘সারেন্ডার’ করতে হবে।

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ফলাফল বিশ্লেষণ
এবারের উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলে যুক্ত হয়েছে এক নতুন মাত্রা। ড. পার্থ কর্মকার জানিয়েছেন, এবার পরিসংখ্যানভিত্তিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বা ‘ব্লকস্প্লট’ (Box plot/Blockplot) প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিটি স্কুলের ফলাফল বিশ্লেষণ করা হবে। এর ফলে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর প্রাপ্ত নম্বরের গড় মান, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন নম্বরের পার্থক্য নিখুঁতভাবে বোঝা যাবে। প্রতিটি স্কুল তাদের নিজস্ব পোর্টালে এই বিশ্লেষণের চিত্র দেখতে পাবে, যা ভবিষ্যতে শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy